google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: চমেক হাসপাতালে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ প্রিজন সেল, ভোগান্তিতে সাধারণ রোগীরা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে কারাবন্দী ও পুলিশি হেফাজতে থাকা আসামিদের। এতে সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অস্বস্তিতে পড়ছেন। অথচ হাসপাতালে আলাদা ৩০ শয্যার প্রিজন সেল থাকলেও তা গত পাঁচ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বর্তমানে ১০ জন বন্দী চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁদের পাহারায় দিনরাত কারারক্ষী ও পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকেন। এতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। হাজেরা বেগম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, “ছেলের বেডের পাশে আসামির বেড, পাশে সবসময় পুলিশ। খুব অস্বস্তি লাগে।”
পাহারায় পুলিশ ও কারারক্ষীর চাপ
প্রত্যেক বন্দীর পাহারায় দৈনিক ছয়জন কারারক্ষী ও চারজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় নগরের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাপ তৈরি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রিজন সেল চালু হলে বাড়তি ১৫০–২০০ পুলিশ সদস্যকে আর হাসপাতালে মোতায়েন রাখতে হতো না।
প্রিজন সেল খালি পড়ে আছে
চমেক হাসপাতালে ২০১১ সালে নিচতলায় বন্দীদের জন্য প্রিজন সেল চালু হলেও আলো-বাতাসের সমস্যা থাকায় তা দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় তলায় নতুনভাবে ৩০ শয্যার প্রিজন সেল বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো চালু হয়নি। সরেজমিন দেখা গেছে, কক্ষটি অযত্নে পড়ে আছে, ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন সরঞ্জাম।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি
প্রিজন সেল চালু না থাকায় অতীতে আসামি পালানোর ঘটনাও ঘটেছে। গত ১৬ এপ্রিল অস্ত্র মামলার আসামি রফিকুল ইসলাম হাসপাতাল থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। পুলিশ পরে তাঁকে আটক করলেও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চট্টগ্রাম রেঞ্জের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া বলেন, “প্রিজন সেল চালু হলে বাড়তি কারারক্ষী মোতায়েনের দরকার পড়বে না। নিরাপত্তাও বাড়বে।”
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, জনবল সংকট থাকলেও খুব শিগগিরই প্রিজন সেল চালু করা হবে।