google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সংস্কার বাস্তবায়নে বিভাজন তীব্র, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: সংস্কার বাস্তবায়নে বিভাজন তীব্র, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া ছবির ক্যাপশন: সংস্কার বাস্তবায়নে বিভাজন তীব্র, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া
ad728

জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আগের মতপার্থক্য নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। ঐকমত্য কমিশন সংস্কার বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিপরীত অবস্থানে চলে এসেছে।

জামায়াত ও এনসিপি কমিশনের সুপারিশকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিভাজন জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে

বিএনপি বলছে, ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা করা হয়েছে

বিএনপির নীতিনির্ধারণী নেতাদের অভিযোগ, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে তাদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেন,

“জনগণের সঙ্গে এটা প্রতারণা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে, নয়তো দায় তাঁকেই নিতে হবে।”

বিএনপি মনে করে, কমিশনের প্রস্তাব জাতিকে ঐক্য নয়, বরং বিভাজনের দিকে ঠেলে দেবে। দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জামায়াত–এনসিপি বলছে, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন,

“ভিন্নমতের ওপর কখনো সিদ্ধান্ত হয় না। সিদ্ধান্ত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে—এটাই বিশ্বের নিয়ম। কমিশনের সব সুপারিশেই ঐকমত্য হয়েছে।”

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত, যেগুলো নিয়ে গণভোটের সুপারিশ করেছে কমিশন। তবে এসব প্রস্তাবের মধ্যে ৩৬টিতেই কোনো না কোনো দলের ভিন্নমত আছে।

মূল বিরোধ তিন বিষয়ে

সংস্কার বাস্তবায়নের সুপারিশে দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ে—
১️⃣ গণভোটের সময় ও পদ্ধতি,
২️⃣ ভিন্নমতের অনুল্লেখ,
৩️⃣ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন

বিএনপি মনে করে, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিনেই হওয়া উচিত, আর গণভোটে জয়ী হলে পরবর্তী সংসদকেই সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে হবে।
অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি চায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হোক, এবং তার ভিত্তিতে সরকার জুলাই বাস্তবায়ন আদেশ জারি করুক।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির আলাদা তৎপরতা

বিএনপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কী ধরনের কর্মসূচি নেবে, তবে দলটি বলছে, সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী গণভোটের দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং অবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,

“গণভোটের তারিখ ঘোষণায় যত দেরি হবে, জাতীয় নির্বাচন তত জটিল হবে।”

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম দেখে তারা সনদে স্বাক্ষরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,

“সংবিধান-সম্পর্কিত নয়, এমন সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। গণভোটে সংবিধান সংশোধনের খসড়াও দ্রুত জনগণের সামনে আনতে হবে।”

রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির এই মতভিন্নতা যদি আরও তীব্র হয়, তবে তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে ঐকমত্যের অভাবই এখন দেশের নতুন রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ