google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে নতুন নাকবা: খাল্লেত আল-ডাবায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 16, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: পশ্চিম তীরে নতুন নাকবা: খাল্লেত আল-ডাবায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ছবির ক্যাপশন: পশ্চিম তীরে নতুন নাকবা: খাল্লেত আল-ডাবায় ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা
ad728

মে মাসের এক সকাল। পশ্চিম তীরের দক্ষিণে শান্ত খাল্লেত আল-ডাবা গ্রাম কেঁপে ওঠে বুলডোজার ও সামরিক যানের গর্জনে। ইসরায়েলি সৈন্যরা গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয় লোকজনকে ঘর থেকে বের করে দেয়, গবাদিপশু ছেড়ে দেয় খোলা মাঠে। দিন শেষে গ্রামটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

এটি ছিল চলতি বছরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত অন্তত চারটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের একটি। স্থানীয় বাসিন্দারা একে বলছেন ‘নতুন নাকবা’—১৯৪৮ সালে ইসরায়েলি আগ্রাসনে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি।


গুহা ও তাঁবুতে ফেরা জীবন

ধ্বংসযজ্ঞের পর বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো নতুন জীবনে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বহু বছর আগে তৈরি গুহায়, কেউ বা থাকছেন দুর্বল তাঁবুতে। গ্রীষ্মের প্রখর রোদ ও শীতের তীব্র ঠান্ডায় এসব তাঁবু টিকছে না।

আত-তুবানি গ্রামের কাউন্সিলপ্রধান মোহাম্মদ রাবিয়া বলেন,

“আমরা প্রস্তরযুগে ফিরে গেছি। গুহা ও তাঁবুতে থাকছি। নেই জীবনধারণের ন্যূনতম উপকরণ। তবু কেউ গ্রাম ছাড়েনি।”

রাবিয়া জানান, ধ্বংসযজ্ঞে গ্রামের সব মৌলিক সুবিধা—পানি, বিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, পানির কূপ, এমনকি রাস্তার বাতিও—নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।


সামরিক প্রশিক্ষণের নামে উচ্ছেদ

খাল্লেত আল-ডাবা হেবরনের দক্ষিণে পাহাড়ঘেরা ১২টি ফিলিস্তিনি গ্রামের একটি। জাতিসংঘের হিসাবে এখানে প্রায় ১,১৫০ জন বাস করেন, যদিও স্থানীয়দের দাবি—বাসিন্দা সংখ্যা চার হাজারের বেশি। তাঁরা মূলত পশুপালন ও কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ইসরায়েল ১৯৮০-এর দশকে এই এলাকা ‘ফায়ারিং জোন ৯১৮’ নামে সামরিক প্রশিক্ষণ অঞ্চল ঘোষণা করে। এরপর থেকেই স্থানীয়দের উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা নিয়মিত হয়ে ওঠে। ৫ মের অভিযানের সময়ও সেনারা দাবি করে, এটি প্রশিক্ষণ অঞ্চলের নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন।

মানবাধিকার সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) ব্যবস্থাপক ফ্রেডেরিক ভ্যান ডোঙ্গেন বলেন,

“মাসাফের ইয়াত্তায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড বৃহত্তর জাতিগত নির্মূল নীতির অংশ। লক্ষ্য একটাই—ফিলিস্তিনিদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করা।”


সামিহার গল্প: “যদি আমি যাই, আমি মরব”

৬৫ বছর বয়সী সামিহা মুহাম্মদ আল-ডাবাবসেহ জীবনের পুরোটা কাটিয়েছেন খাল্লেত আল-ডাবায়। তিনবার বাড়িঘর ধ্বংসের পর এবার তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন নিজে খুঁড়ে তৈরি এক গুহায়। কিন্তু গত ১৭ সেপ্টেম্বর সেই গুহাও গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী।

সামিহা বলেন,

“সেনারা এসে বলল, ‘এটি তোমার জমি নয়।’ কিছু নিতে দেয়নি—না খাবার, না কাপড়। এখন আমি একটি গাছের নিচে থাকি। ভয় পাই, কিন্তু গ্রাম ছাড়ব না। এই মাটি আমার প্রাণ।”


ভয়, তৃষ্ণা ও প্রতিরোধ

সামিহার ছেলে মুজাহিদ আল-ডাবাবসেহ এখন স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দের নিয়ে একটি গুহায় থাকেন। তিনি বলেন,

“শিশুরা প্রতিরাতে বুলডোজার আর হামলার দুঃস্বপ্ন দেখে। বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, নিরাপত্তা নেই। তবু আমরা এখান থেকে যাব না।”

মুজাহিদের মতে,

“ইসরায়েল খাল্লেত আল-ডাবাকে দ্বিতীয় গাজায় পরিণত করেছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ—এখানকার কোনো ফিলিস্তিনি শিশু নিজের জমি ছেড়ে যাবে না।”


প্রতিরোধের প্রতীক খাল্লেত আল-ডাবা

এ গ্রামে মাত্র ১২০ জন বাসিন্দা আছেন, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশই শিশু। সবাই ডাবাবসেহ বংশের সদস্য। বারবার ধ্বংস ও পুনর্গঠনের মধ্যেও তাঁরা মাটি আঁকড়ে রয়েছেন।

মোহাম্মদ রাবিয়া বলেন,

“এটি চলমান নাকবা। কিন্তু মানুষ এখানেই থেকে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চারবার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, চারবারই আমরা পুনর্নির্মাণ করেছি।”

খাল্লেত আল-ডাবা এখন গুহা, তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপের মিশ্র চিত্র—তবু এটি ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচল প্রতিরোধের প্রতীক, যাঁরা সাত দশক ধরে নাকবার পর নাকবার সহ্য করেও নিজেদের মাটির সঙ্গে অটুট রয়েছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ