google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বান্দরবানে ভালুকের আক্রমণে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত
বান্দরবান-চিম্বুক-থানচি সড়কের পোড়াবাংলা পটোসিংপাড়ায় আজ শুক্রবার সকালে ভালুকের আক্রমণে কাইনপ্রে ম্রো (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাইনপ্রে ম্রো জুমখেতে কাজ করছিলেন। এ সময় পাশের কলাবাগান থেকে একটি কালো ভালুক হঠাৎ তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভালুকটি তাঁর পেটে ও মুখে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ভালুকটি বনে পালিয়ে যায়। পরে তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকেরা জানান, আহত কাইনপ্রে ম্রোর পেট ও মাথায় গভীর ক্ষত রয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম পাঠানো হয়েছে। পোড়াবাংলা পটোসিংপাড়া বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়নে অবস্থিত।
বন বিভাগ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় ভালুকের আক্রমণ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে অন্তত ১০ জন ভালুকের আক্রমণে আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্য। এখন পর্যন্ত কেউ ক্ষতিপূরণ পাননি।
বন বিভাগের বান্দরবান বিভাগের কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, “প্রাকৃতিক বনাঞ্চল কেটে উদ্যান বাগান ও জুমচাষের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভালুকসহ বন্য প্রাণীরা তাদের আবাসস্থল ও খাদ্য হারাচ্ছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে মানুষের এলাকায় চলে আসছে। বননির্ভর মানুষের বিকল্প আয়–সংস্থানের ব্যবস্থা না করা গেলে বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ ও সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী ও মানুষের জন্যই তা হুমকির কারণ হবে।”