পরিচালক গ্যাভিন ও’কনোর এবং প্রযোজক মার্ক টমাস চার্ডি একটি অনুপ্রেরণামূলক ঘটনার উপর সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন, যাকে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড ‘বিশ শতকের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মহান মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছে।
১৯৮০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের লেক প্লাসিডে শীতকালীন অলিম্পিকে আইস হকির পদক লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দল মুখোমুখি হয় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের। পূর্বের ছয় আসরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন সোভিয়েতদের মোকাবিলা করে মূলত অপেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত মার্কিন দল। প্রত্যাশিতভাবে ম্যাচে সোভিয়েতদের জেতা ছিল নিশ্চিত, কিন্তু ঘটল অলৌকিক কিছু। মার্কিন দল ৪–৩ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। এই জয়ের পেছনে কোচ হার্ব ব্রুকসের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিনেমার কেন্দ্রবিন্দুতে দল নয়, বরং কোচ ব্রুকস। তাঁর কঠোরতা ও কোমলতার মিশ্রণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা দেয়। চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হন সাবেক মাইনর লিগ বেসবল খেলোয়াড় কার্ট রাসেল, যিনি ব্রুকসের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন।
শুটিং শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে হার্ব ব্রুকস এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। সিনেমার শেষ দৃশ্যে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। ছবির বাজেট ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার হলেও বক্স অফিস আয় ৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা এটিকে খেলাধুলাভিত্তিক ক্ল্যাসিক সিনেমার মধ্যে স্থান দিয়েছে। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সেরা ১০০ অনুপ্রেরণামূলক সিনেমার তালিকায় ‘মিরাকল’ও অন্তর্ভুক্ত।
৪৫ বছর আগের সেই ম্যাচের শেষ মুহূর্তের আবেগ এখনো দর্শকের মনে অমর—‘ডু ইউ বিলিভ ইন মিরাকলস? ইয়েস!’