google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: পদ্মার পাড়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশের হাট
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে প্রকাশ্যে ইলিশ কেনাবেচা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, নদী থেকে জেলেদের নৌকা ভিড়তেই ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। কেউ জানতে চান, “ইলিশের কেজি কত?”, কেউ বলেন, “জোড়া কত?”—এভাবেই দরদাম করে ব্যাগভরে ইলিশ কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।
নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে পদ্মার পাড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসছে অস্থায়ী মাছের হাট। শুধু কাজিরসূরাই নয়, বন্দরখোলা, মাদবরেরচর, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের অন্তত আরও চারটি স্থানে এমন হাটে অবাধে চলছে ইলিশ কেনাবেচা।
ব্যবসায়ী দেলোয়ার সাঈদ জানান, “বাজারে তো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীর পাড়ে তাজা ইলিশ কম দামে পাওয়া যায়, তাই এসেছি। এখানে ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ আছে।”
সরকার মা ইলিশ রক্ষায় ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।
শিবচর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস, ৪৩ জন জেলেকে আটক ও ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা ৩৭০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মায় অভিযান হলেও তা অনেকটাই ঢিলেঢালা। নদীবেষ্টিত দুর্গম হাটগুলোয় প্রশাসনের উপস্থিতি খুব কম। ফলে জেলেরা সুযোগ বুঝে প্রকাশ্যেই মাছ বিক্রি করছেন।
কাজিরসূরার জেলে আব্বাস মাদবর বলেন, “আমরা কার্ড পাই না, চাল পাই না। কোনো সাহায্য পাই না। তাই বাধ্য হয়ে ইলিশ ধরতে আসছি। মাছ না ধরলে খাব কী? পুলিশ আসে, ধাওয়া দেয়, আবার যাই।”
হাটে বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, ছোট ইলিশ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। পাইকারদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দলে দলে এসে কিনছেন মাছ।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলছে। কিছু জায়গা দুর্গম ও জনবহুল হওয়ায় অভিযান কঠিন হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী নিয়ে কয়েকটি হাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এবার শুধু জেলেদের নয়, ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—ইতিমধ্যে দুজন ক্রেতাকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “ইলিশ রক্ষায় ২৪ ঘণ্টা টহল দরকার, কিন্তু লোকবল কম। তবুও অভিযান অব্যাহত রয়েছে—ইতিমধ্যে আটটি ট্রলার, একটি স্পিডবোট জব্দ এবং ৪৩ জন জেলে আটক করা হয়েছে।”