google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘাস কেটে সংসার চালান হান্নান
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চ ঘিরে লাগানো পলাশ, শিমুল, সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া ফুলগাছের নিচে এখন ঘাসের সমারোহ। বর্ষায় বেড়ে ওঠা এই ঘাস কাটছিলেন মো. হান্নান—শেরপুরের শ্রীবরদীর মানুষ। প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস তাঁর, জীবিকা ঘাস কাটা ও বিক্রি করা।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের অস্থায়ী বাসিন্দা হান্নান প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহকের জন্য ঘাস সরবরাহ করেন। কারা কেনেন এই ঘাস? রাজধানীর আড়ালে–আবডালে গড়ে ওঠা ছোট-বড় খামারগুলোই তাঁর মূল ক্রেতা। পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারের এক ছাদের খামারে আছে ৪৫টি গরু—তাদের খাবারও সরবরাহ করেন হান্নান।
প্রতি বস্তা ঘাস বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। ছাগল বা ভেড়ার জন্য আঁটিপ্রতি ঘাসের দাম ৫০ টাকা। নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য দিনে ১০–১২ বস্তা ঘাস কাটলেও চাহিদা বেশি থাকলে ১৮ বস্তা পর্যন্ত তুলতে হয়। এক দিনে কখনো দুই হাজার টাকার ঘাস বিক্রি করতে পারেন হান্নান, আর সেটিই তাঁর সংসারের মূল ভরসা।
এই পেশা শুরু হয়েছিল বেশ কাকতালীয়ভাবে। পুরান ঢাকার এক পরিচিতজনের অনুপস্থিতিতে খামারে ঘাস সরবরাহের বদলি কাজ করতে গিয়ে এই পেশায় জড়িয়ে পড়েন। শুরুতে অর্ডার ছিল কম, এখন চেনাজানা গ্রাহক বাড়ায় চাহিদাও বেড়েছে। কখনো কখনো খামার থেকে বাসায় ফিরতে রাত একটা বেজে যায় তাঁর।
বর্ষা থেকে শরৎ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ করলেও অন্য মৌসুমে তাঁকে যেতে হয় পূর্বাচল, গাবতলী বা ডেমরায়। ঘাস কম থাকলে বাজার থেকেও কিনে এনে সরবরাহ করতে হয়, তখন লাভও কমে যায়।
উদ্যানে ঘাস কাটতে কেউ বাধা দেয় না জানিয়ে হান্নান বলেন,
“না না, বাধা দেয় না। বরং ডেকে নেয়। কারণ, ঘাস কাটা হলে তো আগাছা পরিষ্কার হয়।”
তাঁর এই ঘাস বিক্রির আয় দিয়েই সংসার চলছে, তিন মেয়েকে কলেজ পাস করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন, তিন ছেলে পড়ছে কলেজ ও মাদ্রাসায়। রাজধানীর কংক্রিটের ভেতরে টিকে থাকা এক সবুজ জীবিকার গল্প যেন মো. হান্নানের জীবন।