খুলনা-৬ (কয়রা–পাইকগাছা) আসনের নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘বেহেশতের টিকিট’ শব্দটি। এই ইস্যুকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যার ফলে ভোটের মাঠে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।
কয়রা উপজেলার ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির নির্বাচনী প্রচারসভায় দলীয় প্রার্থী ও খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসান অভিযোগ করেন—জামায়াত ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়ার ‘টিকিট’ দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে। তিনি এটিকে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার বলে দাবি করেন।
মনিরুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত ধর্মের ভয় দেখিয়ে সরলমনা নারীদের বিভ্রান্ত করছে। পাশাপাশি তিনি জানান, বিএনপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে ‘বহিরাগত’ বলা মিথ্যা প্রচার। যদিও তিনি খুলনার অন্য উপজেলার বাসিন্দা, তারপরও কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে তাঁর কোনো বাধা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদেরও এই এলাকায় স্থায়ী বাড়ি নেই।
মনিরুল হাসান দাবি করেন, মাঠে প্রচার চলছে যে জামায়াত প্রার্থীর জন্ম ভারতে—যা তিনি মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর নিজের জন্ম খুলনায়, তাই এলাকার প্রতি তাঁর অগ্রাধিকারও বেশি।
জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বেহেশতের টিকিট’ দেওয়া বা বিক্রি করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন—মনিরুল হাসান যদি কোনো টিকিট দেখাতে পারেন, তাহলে অভিযোগ প্রমাণিত হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর কয়রা গ্রামেই তাঁর পৈতৃক বাড়ি রয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা কোনো টিকিট বিক্রি করেন না। কোরআন-হাদিস অনুযায়ী সৎ প্রার্থীকে ভোট দিলে সওয়াব পাওয়া যায়, আর দুর্নীতিবাজকে ভোট দিলে পাপ ভাগ হয়—এই ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে কেউ যদি ‘বেহেশতের টিকিট’ মনে করেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা।