মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেও ভালো চাকরি না পেয়ে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ইমরান খান (২৫)। অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সেই চেষ্টাই তাঁর জীবনের ইতি টেনে দিল। পরিবারের দাবি, গত ১ নভেম্বর লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকায় জলদস্যুদের গুলিতে নিহত হন ইমরান। পরে তাঁর লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
পরিবার জানায়, গতকাল মঙ্গলবার তারা এক দালালের মাধ্যমে ইমরানের মৃত্যুর খবর পান। মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের আদিত্যপুর গ্রামের মো. তৈয়ব আলীর ছেলে ইমরান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের বড় ছেলে আগেই মারা যাওয়ায় তিনিই ছিলেন সবার ভরসা।
আজ বুধবার ইমরানের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, শোকাহত মানুষে ভরা পুরো বাড়ি। অশ্রুসিক্ত চোখে বাবা তৈয়ব আলী (৮০) শুধু বলেন, “ছেলের মুখটা দালালে দেহায় নাই… শুধু বলছে মারা গেছে।” মা রেহেনা বেগম (৬৫) বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। দুই ভাই হারিয়ে অসহায় ফাতেমা বেগম নিজেও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় দালাল শিপন খান ভয়ভীতি দেখিয়ে বাবার সব জমিজমা বিক্রি করিয়ে প্রথমে ২২ লাখ ও পরে আরও ২০ লাখ—মোট ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শিপন খান দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করেন এবং এলাকার বহু যুবককে অবৈধ পথে ইতালি পাঠান। তাঁর ভাই সেলিম খানও এ কাজে যুক্ত। ইমরানের মৃত্যুর পর দুই ভাই-ই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
পরিবারের ভাষ্য, ৮ অক্টোবর দেশ ছাড়ার পর ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিসর হয়ে ইমরানকে লিবিয়ার বেনগাজিতে নেওয়া হয়। সেখানকার বন্দিশালায় আটকে রেখে আরও টাকা আদায় করা হয়। ১ নভেম্বর রাতে নৌকায় ওঠার পরপরই জলদস্যুরা হামলা চালায় এবং গুলিতে নিহত হন ইমরান।
ইমরান ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সক্রিয় সদস্য। রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবার অভিযোগ দিলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।