google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজেলেলমা’র ইতিহাস গড়া সফল আকাশ–আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 2, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজেলেলমা’র ইতিহাস গড়া সফল আকাশ–আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছবির ক্যাপশন: তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান ‘কিজেলেলমা’র ইতিহাস গড়া সফল আকাশ–আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
ad728

প্রথমবারের মতো তুরস্কের মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান বাইরকতার কিজেলেলমা (Kızılelma) আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষায় এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানে এবং দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা জেট–ইঞ্জিনচালিত একটি লক্ষ্যবিমানে নিখুঁতভাবে হামলা করতে সক্ষম হয়।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইকার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানটি সিনোপ উপকূলে পরীক্ষার সময় আকাশে দ্রুতগতিতে চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে ইতিহাস সৃষ্টি করে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০ নভেম্বর


বিশ্বে প্রথম: মনুষ্যবিহীন বিমানের আকাশ–আকাশ যুদ্ধ সক্ষমতা

এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিজেলেলমা বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান হিসেবে আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করল।
বাইকার জানায়, দেশীয়ভাবে তৈরি Gökdoğan ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কিজেলেলমা উচ্চগতিতে চলমান লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে।

যুদ্ধবিমানটিতে রয়েছে তুরস্কের উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ASELSAN–এর তৈরি MURAD AESA রাডার। এই রাডার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে তা অনুসরণ করে এবং বিমানের ডান-বাম ডানার নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানে।


মানববাহী ও মানববিহীন যুদ্ধবিমানের যৌথ অভিযান

পরীক্ষাটি পরিচালিত হয় তুরস্কের মেরজিফন বিমানঘাঁটি থেকে। এতে কিজেলেলমার সঙ্গে অংশ নেয় পাঁচটি F-16 যুদ্ধবিমান
এ ছাড়া আরেকটি মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান Bayraktar Akıncı আকাশ থেকে পুরো অভিযান ভিডিও ধারণ করে।
এই যৌথ অনুশীলন ভবিষ্যতের মানববাহী ও মানববিহীন আকাশযুদ্ধের কৌশলের নতুন দিক নির্দেশ করে।


স্টেলথ সুবিধা ও উন্নত সেন্সরব্যবস্থা

কিজেলেলমা শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না।
উন্নত সেন্সরব্যবস্থার সাহায্যে এটি দৃষ্টিসীমার বাইরে (BVR) থাকা শত্রু বিমান শনাক্ত করতে সক্ষম—শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার আগেই।

এতে যুক্ত রয়েছে:

  • MURAD AESA রাডার

  • Toygun Targeting System

  • দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপের ক্ষমতা

আগের পরীক্ষায় এটি TOLUNTEBER-82 অস্ত্র ব্যবহার করে ভূমিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল। এবার দেখালো আকাশ–আকাশ ক্ষমতা।

এর ফলে এটি এখন Air-to-Ground এবং Air-to-Air—দুই ধরনের অভিযানে সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।


বাইকার: তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের শীর্ষে

২০০৩ সাল থেকে নিজস্ব তহবিলে মনুষ্যবিহীন আকাশযান উন্নয়নে কাজ করে আসছে বাইকার

  • ২০২৩ সালে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি থেকে আয়: ১৮০ কোটি ডলার

  • ২০২৪ সালেও এই আয় অব্যাহত

  • গত চার বছর ধরে তুরস্কের শীর্ষ প্রতিরক্ষা ও অ্যারোস্পেস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান

কিজেলেলমার এই সাফল্য তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তন আনবে এবং দেশটির সামরিক প্রযুক্তিকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ