google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের পেটে ২৯ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক খাতে বাড়ছে সংকট
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ঋণ ফেরত দিচ্ছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৩ জন। তাঁদের কাছে আটকে আছে প্রায় ২৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণ না ফেরানো এ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এখনও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির পূর্ণাঙ্গ তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৭৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ এখন খেলাপি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যাংক খাতে অনিয়ম এবং সহজ পুনঃতফসিলের সুযোগের কারণে খেলাপি সংস্কৃতি দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তৈরি হচ্ছে, নতুন ঋণ বিতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং আমানতকারীর আস্থা কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ১১৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ, যা মোট ঋণের ৩৩ শতাংশ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার কঠিন হবে। অনেক বিশেষজ্ঞ প্রস্তাব করেছেন, নেপালের মতো বাংলাদেশেও খেলাপিদের নাম প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা উচিত।
অগ্রণী ব্যাংক ও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক সীমিত পর্যায়ে ঋণ আদায়ের উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ ব্যাংক এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বিপুল অঙ্কের ঋণখেলাপির তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপিদের নতুন করে কোনো ঋণ, গ্যারান্টি বা ট্রেড ক্রেডিট না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, কঠোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।