google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ঘরে, স্কুলে, বাজারে—সর্বত্র স্তন ক্যানসার সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে
দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—লজ্জা ও সচেতনতার অভাবে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ঘরে, স্কুলে, বাজারে—সর্বত্র স্তন ক্যানসার সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে নারীরা এবং তাদের পরিবার সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ হন।
আজ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জেনে নিন, জেগে উঠুন। স্ক্রিনিং জীবন বাঁচায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরাম।
আলোচনায় স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে সঠিক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি এলাকায় বাড়ি বাড়ি সচেতনতা পৌঁছে দিতে হবে।
অধ্যাপক মুজাহিরুল হক বলেন, “আমরা চাই না কেউ ক্যানসারে ভুগুক। তাই প্রথমেই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। আর আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা করাতে হবে। স্ক্রিনিং ক্যানসারকে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং চিকিৎসা ব্যয়ও কমায়।”
স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন জানান, প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার নারী ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৬ হাজার মারা যান। তিনি বলেন, “দেশে ম্যামোগ্রাম সুবিধা সীমিত, অথচ দ্রুত শনাক্তে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি প্রতিটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আর্লি ডিটেকশন ক্যানসার সেন্টার স্থাপনের সুপারিশ এবং রেডিওথেরাপি মেশিনের সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হালিদা হানুম আক্তার বলেন, “গোলাপি রংকে স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতীক করে তুলতে হবে। ঘরে ঘরে, স্কুলে, বাজারে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।”
নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাকসুদা খাতুন শেফালী বলেন, ক্যানসার সচেতনতা বাড়াতে নির্দিষ্ট সংস্থা বা ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
অধ্যাপক মালিহা রশিদ বলেন, ছোট মেয়েদের এইচপিভি ভ্যাকসিন দেওয়া হলে ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। তিনি স্ক্রিনিং পরীক্ষার খরচ কমানোর আহ্বান জানান।
অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক, বলেন, স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে স্তন ক্যানসার সচেতনতা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, ৩০-৩১ অক্টোবর রাজশাহী ও খুলনা রুটে ‘গোলাপিসজ্জিত বাসে’ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং ৮ নভেম্বর ঢাকায় ‘চতুর্থ সমাজভিত্তিক ক্যানসার সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে স্তন ক্যানসার অপারেশনের খরচ সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার টাকা, আর অতিদরিদ্রদের জন্য মাত্র ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্যানসার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম, অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, ক্যানসার সার্জন মো. হাসানুজ্জামান এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রমুখ।
আলোচনা সভার আগে অনুষ্ঠিত হয় প্রতীকী গোলাপি শোভাযাত্রা, যা স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতীক হিসেবে আয়োজিত হয়।