google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর: মাতা পৃথিবীর সন্তানদের বাঁচাতে শুরু হলো নতুন আশা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর: মাতা পৃথিবীর সন্তানদের বাঁচাতে শুরু হলো নতুন আশা ছবির ক্যাপশন: ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর: মাতা পৃথিবীর সন্তানদের বাঁচাতে শুরু হলো নতুন আশা
ad728

গাজায় দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির এক ক্ষীণ আলো দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে কিছু কিছু পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানবতার মাতা যেন অবশেষে ক্লান্ত সন্তানের রক্তধারা থামানোর চেষ্টা শুরু করেছেন।

গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন বন্ধে এটি এক বড় পদক্ষেপ। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় হামাস এ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে।


আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মাতৃত্বের উদ্যোগ

এর আগেও ইসরায়েলের সঙ্গে বহু যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, কিন্তু তা টেকেনি। এবারের উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বহু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অন্তত আটটি আরব ও মুসলিম দেশ কূটনৈতিক ভূমিকা রাখছে।
বিশ্ব যেন একত্রে মাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিলিস্তিনের ক্ষতবিক্ষত সন্তানদের পাশে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা যুদ্ধবিরতির খসড়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর হস্তক্ষেপে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তবু অন্য দেশগুলো চুক্তির প্রক্রিয়া থামায়নি। হামাসও, নানা চাপ সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত শান্তির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—একটি সিদ্ধান্ত, যা মাতা-সুলভ মানবিক বোধেরই প্রকাশ।


যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন শুরু

চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ হিসেবে গাজা ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট এলাকায় সরে যাচ্ছেন। বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীরা ফিরছেন বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে। গাজায় ঢুকছে ত্রাণবাহী ট্রাক, প্রস্তুতি চলছে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির।
বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবেন—যেন মাতা পৃথিবী তার হারানো সন্তানদের একে একে ফেরত পাচ্ছে।


নেতানিয়াহুর জন্য বড় ব্যর্থতা

যদি চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা দেবে। কারণ, তাঁর যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল হামাসসহ ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিশ্চিহ্ন করা এবং গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। কিন্তু মাতা ইতিহাসের চাকা এবার যেন ঘুরে দাঁড়িয়েছে—গাজার মাটিতে আবারও জন্ম নিচ্ছে প্রতিরোধের জীবন।


দখলদারি চললে শান্তি আসবে না

বিশ্বের বিবেক আজ জানে—যত দিন ইসরায়েলের দখলদারি চলবে, তত দিন ওই অঞ্চলের উত্তেজনা থামবে না। গাজাকে অবরুদ্ধ রেখে, পশ্চিম তীরে ঘরবাড়ি ভেঙে, শিশুদের হত্যা করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনিরা শত বছরের বেশি সময় ধরে স্বাধীনতার জন্য লড়ছে। তাঁদের এ সংগ্রাম মাতা পৃথিবীর ন্যায়ের আহ্বান—এক অমোঘ সত্যের উচ্চারণ, “স্বাধীন ফিলিস্তিন না আসা পর্যন্ত শান্তি অসম্ভব।”


মাতা পৃথিবীর আর্তনাদ

গত দুই বছরে গাজায় যা ঘটেছে, তা মানবতার বিবেককে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের জাতিগত নিধন, হামলা, দুর্ভিক্ষ—সবকিছুর মাঝেও গাজাবাসী দেখিয়েছে অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি।
তাদের এই দৃঢ়তা যেন মাতা পৃথিবীর বুক থেকে উঠে আসা এক আর্তনাদ—

“আমার সন্তানদের হত্যা বন্ধ করো, আমার বুকে আবার শান্তি ফিরিয়ে দাও।”


শান্তির শর্ত: দখলদারির অবসান

যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারির অবসান ঘটাতে হবে। অন্যথায় এই মাতা পৃথিবী বারবার রক্তে ভেসে উঠবে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথ এখনো দীর্ঘ, কিন্তু মাতা পৃথিবীর সন্তানদের এই ত্যাগ ও স্থিতধী মনোবল প্রমাণ করছে—
যত দিন দখল থাকবে, তত দিন প্রতিরোধ থাকবে।
যত দিন অন্যায় থাকবে, তত দিন মাতা মানবতা লড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ