বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের জীবনের শুরুটা ছিল এক অনিশ্চিত সংগ্রামের গল্প। মুম্বাইয়ের চকমকে দুনিয়ায় নিজের জায়গা তৈরি করার আগে তিনি একা লড়েছিলেন—মায়ের অসুস্থতা, সংসারের টানাপোড়েন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে। সেই সময় পাশে ছিলেন অভিনেতা ও প্রযোজক বিবেক বাসওয়ানি, যাঁর ঘরেই প্রথম আশ্রয় পেয়েছিলেন শাহরুখ।
রেডিও নাশার এক সাক্ষাৎকারে বিবেক জানান, “শাহরুখ আমার বাড়িতে থাকত। একদিন বলল, ভেজ খেতে ভালো লাগে না, তাই বাইরে গিয়ে কিছু খাই। প্রথম ২০ মিনিট চুপচাপ খেয়ে গেল—কারণ সে দুই দিন ধরে ঠিকমতো কিছু খায়নি। খাওয়ার পর বলল, ‘আমার মা মারা যাচ্ছেন।’”
বিবেক স্মরণ করেন, সেই রাতব্যাপী তারা মায়ের অসুস্থতা, বোন শেহনাজ এবং গৌরীর কথা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সে সময় শাহরুখের মা হাসপাতালে, আর গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কও টালমাটাল। এক প্রস্তাবিত সিনেমার জন্য শাহরুখ স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “গৌরী চায় না আমি পর্দায় মেয়েদের জড়িয়ে ধরি,” তাই তিনি তখন শুধু টেলিভিশনে অভিনয় করতেন।
তবুও বিবেক তাঁকে রাজি করান তিন দিনের শুটিংয়ে শিমলায় যেতে। সেটি ছিল ‘মায়া মেমসাব’—একটি শিল্পধর্মী সিনেমা। মা মারা যাওয়ার আগেই ছবিটি শেষ হয়।
মায়ের মৃত্যুর পর শাহরুখ ভেঙে পড়েন। ১০ দিন পর তিনি বিবেকের দরজায় হাজির হয়ে বললেন, “তুমি কি আমার সঙ্গে একটা সিনেমা করবে?” এতে প্রকাশ পায় তাঁর মায়ের স্বপ্ন—সুপারস্টার হওয়া। সেই রাতেই জন্ম নেয় ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’-এর পরিকল্পনা।
যদিও প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘দিওয়ানা’ (১৯৯২), ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’ শাহরুখকে বলিউডের সামনের সারিতে নিয়ে আসে। পরে তিন বছর আগে প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেতে গিয়ে শাহরুখ বলেন, “সবকিছু শুরু হয়েছিল তোমার কাছ থেকে, বিবেক। রাজু অবশেষে জেন্টলম্যান হয়ে গেল।”