google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: প্রতিবন্ধীদের-অধিকার-ও-মানবিক-সমাজ-গঠনে-আমাদের-করণীয়
তীব্র শীত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মাইল উড়ে আসে অতিথি পাখিরা, আশ্রয় খুঁজতে আসে আমাদের দেশে। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই আমরা তাদের হত্যা করে মাংসের উৎসবে মেতে উঠি। এই উদাহরণ আমাদের মানবিকতার ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তোলে—প্রকৃতি, প্রাণী কিংবা মানুষ—কাউকেই আমরা যথেষ্ট সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিতে শিখিনি।
আমাদের সমাজে এখনও বৃদ্ধ মা–বাবা অবহেলার শিকার, শিক্ষককে সম্মান দেওয়ার সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে, আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা প্রাপ্য যত্ন ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনে প্রয়োজন বিশেষ যত্ন, ভালোবাসা ও সুযোগ। তাদেরও অনুভূতি, আত্মসম্মান ও স্বপ্ন আছে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্রের অবহেলায় তারা হয়ে উঠছে “পরগাছার মতো”—অন্যের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ অনেক সময় তাদের প্রতিভা সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি।
এই প্রতিবন্ধিতার পেছনে থাকে নানা কারণ—জিনগত সমস্যা, গর্ভাবস্থায় মায়ের অসুস্থতা, জন্মগত ত্রুটি, দুর্ঘটনা, ভুল চিকিৎসা কিংবা পুষ্টির অভাব। আবার অগ্নিকাণ্ড বা নেশাজনিত কারণেও অনেকেই স্থায়ী প্রতিবন্ধিতায় ভোগেন। কিন্তু এসব ঘটনার পরও কার্যকর কোনো ক্ষতিপূরণ বা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা প্রায় দেখা যায় না।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মর্জিনা প্রতিদিন অফিসে যেতে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ান, কিন্তু চালকরা তাঁকে তুলে নিতে চান না। ব্রেইল বই ভালোবাসেন নাজিম, বুশরা, মোহিনী—কিন্তু বইমেলায় তাঁদের কথা কজন ভাবে? দিনাজপুরের মির্জা শিকলে বাঁধা জীবন কাটায়, আর তার মা দিনভর কাজ করেন অন্নের জোগানে। এই দৃশ্যগুলো দেখেও সমাজ নীরব থাকে।
প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন এখন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, রাষ্ট্রেরও বাধ্যবাধকতা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (SDG) বৈষম্য হ্রাস ও প্রতিবন্ধীবান্ধব নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত—
১️⃣ ব্যাংক থেকে বিনা সুদে ব্যবসার ঋণ দেওয়া।
২️⃣ উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৩️⃣ কৃত্রিম সহায়ক যন্ত্রে ভর্তুকি দেওয়া।
৪️⃣ সরকারি অফিস, বাস টার্মিনাল ও শৌচাগারগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা।
৫️⃣ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা।
৬️⃣ শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল ও ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করা।
৭️⃣ খেলাধুলা ও বিনোদনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
৮️⃣ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরির সংস্থান করা।
অটিজম নিয়ে যেভাবে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, প্রতিবন্ধিতার প্রতিটি ক্ষেত্রেও তেমন উদ্যোগ প্রয়োজন। আমাদের দেশের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী—তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি মানেই একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া।
লেখক: নাজিয়া জাবীন
পদবি: প্রতিষ্ঠাতা, স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনা; শিশুসাহিত্যিক