ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো গৃহবন্দী অবস্থায় পায়ের গোড়ালিতে লাগানো নজরদারির যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) ক্ষতিগ্রস্ত করার কারণে শনিবার পুলিশ তাকে আটক করেছে। পুলিশ আশঙ্কা করছিল, যন্ত্রটি নষ্ট করার ফলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন।
বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে বামপন্থী লুলা দ্য সিলভার কাছে পরাজিত হন। ক্ষমতায় থাকাকালীন অভ্যুত্থানের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে গত সেপ্টেম্বর তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার আপিল প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
ফেডারেল পুলিশ তাকে ১২ বর্গমিটারের একটি কক্ষে রাখছে। আটক হওয়ার আগে তিনি পৃথক এক মামলায় ১০০ দিনের বেশি গৃহবন্দী ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস বলসোনারোকে আটক করার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সমর্থকেরা বলসোনারোর বাড়ির বাইরে সমাবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা গৃহবন্দী অবস্থার তদারকি ব্যাহত করতে পারে।
বলসোনারোর আইনজীবীরা এই আটকে রাখার নির্দেশকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বলসোনারো আগেও আর্জেন্টিনা দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করেছিলেন। তার ছেলে এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ইতিমধ্যে দেশ ছাড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, বলসোনারোর গোড়ালিতে থাকা নজরদারি যন্ত্রে ক্ষতি ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায় যন্ত্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পোড়া দাগ রয়েছে। একটি ভিডিওতে বলসোনারো স্বীকার করেছেন, তিনি কৌতূহলবশত যন্ত্রটি পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ যন্ত্রটি প্রতিস্থাপন করে এবং বিচারপতি তাকে আটক করার নির্দেশ দেন।
জইর বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার আটক হওয়া ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য টানাপোড়েনের আশঙ্কা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, বলসোনারোর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্মিত ও অসন্তুষ্ট।