উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের একটি স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), অর্থাৎ অভীষ্ট লক্ষ্যের বিবৃতি লিখতে হয়। এসওপি মূলত শিক্ষার্থীর আগ্রহ, লক্ষ্য ও পরিকল্পনা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
এসওপিতে শিক্ষার্থীর কাছে সাধারণত প্রশ্ন থাকে—কেন পড়তে চান, কী পড়বেন, কোন কারণে পড়তে চাইছেন, কী গবেষণা করবেন এবং গবেষণার সঙ্গে নিজেকে কীভাবে সম্পৃক্ত করবেন। গবেষণাধর্মী প্রোগ্রাম যেমন পিএইচডি বা মাস্টার্সের জন্য অতীতের গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লেখা আবশ্যক। পেশা-সংক্রান্ত স্নাতক কোর্সের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের পেশাগত লক্ষ্য উল্লেখ করতে হয়।
এসওপি-তে কী থাকা উচিত:
-
শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
-
গবেষণা বা শিক্ষার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে লেখা।
-
থিসিস, প্রকল্প, প্রকাশিত নিবন্ধ, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদির সংক্ষিপ্ত উল্লেখ।
-
বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগের সঙ্গে শিক্ষার্থীর উপযুক্ততা ব্যাখ্যা।
-
গল্পের মতো ধারাবাহিক ও সুসংহত লেখা।
লেখার সময় খেয়াল রাখার বিষয়:
-
অপ্রচলিত বা জটিল ইংরেজি শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলা।
-
মিথ্যা তথ্য বা হুবহু অনুকরণ করা এড়িয়ে চলা।
-
সম্পাদনা ও রিভিশনের মাধ্যমে কাঠামো তৈরি করা।
-
প্রয়োজন হলে শিক্ষক, সিনিয়র বা এআই প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া, তবে কপি–পেস্ট করা যাবে না।
প্রস্তুতির ধাপ:
-
এক পৃষ্ঠায় শিক্ষাগত যোগ্যতা, আগ্রহ, কাজের অভিজ্ঞতা ও গবেষণার তথ্য লিখে নেওয়া।
-
অন্য পৃষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের যোগ্যতা ও মূল পয়েন্ট তৈরি করা।
-
দুটি পৃষ্ঠার তথ্য সংযোগ করে গল্পের মতো সম্পূর্ণ চিত্র তৈরি করা।
-
সংক্ষিপ্তভাবে দুই পৃষ্ঠার মধ্যে লেখাটি উপস্থাপন করা।
এসওপি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করতে অত্যন্ত কার্যকর। সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও সৃজনশীলভাবে লেখা এসওপি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রার্থীকে উপযুক্ত প্রমাণ করতে সহায়তা করে।