ঝিনাইদহে দীর্ঘ ৩২ বছর পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্মাণশ্রমিক মাইদুল ইসলাম (৩২) তাঁর পিতৃপরিচয় ফিরে পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর মা ফরিদা খাতুন (৫০) পেয়েছেন স্বামীর স্বীকৃতি—যা নিয়ে মা–ছেলের মুখে এখন আনন্দের হাসি।
মাইদুল ও তাঁর মা ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার মামুনসিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের দাবি করা বাবা মোহাম্মদ আলী (৫৮) এত বছর স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে তাঁদের স্বীকৃতি মেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রায় ৩২ বছর আগে প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ফরিদার। একসময় তাঁরা গোপনে বিয়ে করেন। পরে সন্তানসম্ভবা হলে মোহাম্মদ আলী বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। গ্রামে সালিস হলেও তিনি ফরিদাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর থেকে ফরিদা নিজেই ছেলেকে বড় করেন এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা চালান।
মাইদুল জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মায়ের কাছে বাবার পরিচয় শুনেছেন। তবে বাবা তাঁদের মেনে না নেওয়ায় তিনি প্রতিবাদ না করে কষ্ট চেপে রাখতেন। সম্প্রতি জমির পথ নিয়ে বাবার অন্য সংসারের ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়। এ সময় থানায় দেওয়া এক অভিযোগে বাবার নামের জায়গায় অন্য নাম উল্লেখ করা হলে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পান। এরপরই মা–ছেলেসহ আদালতের শরণাপন্ন হন।
এ বছরের ২৬ আগস্ট লিগ্যাল এইডের সহায়তায় তাঁরা আদালতে দুটি মামলা করেন। মামলার শুনানিতে মোহাম্মদ আলী স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। পরে আদালতে হাজির হয়ে ১২ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী স্ত্রী ফরিদা খাতুন এবং ছেলে মাইদুল ইসলামকে স্বীকৃতি দেন।
গতকাল শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাইদুল নিজের সংসার করছেন। তাঁর স্ত্রী ঝিনু বেগম বাক্প্রতিবন্ধী এবং তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে ফরিদা এখনো তাঁর খালুর দেওয়া জমিতে তৈরি সরকারি ঘরে থাকেন। তিনি জানান, ৩২ বছর ধরে স্বামীর স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন—অবশেষে সেই আশা পূরণ হলো।
গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বহু বছর আগে সালিস করেও তাঁরা ফরিদার সমস্যা সমাধান করতে পারেননি। এখন আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার মিলেছে।
মোঃ আলী সরাসরি সাক্ষাৎ না দিলেও মুঠোফোনে জানান, তিনি আদালতে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রী–সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর মামলাও তুলে নেওয়া হবে।
আইনজীবী আশরাফুল আলম বলেন, বিবাদীপক্ষ নানা অজুহাতে সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত আদালতেই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন মোহাম্মদ আলী।