পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাঁর স্বজন বা দলীয় নেতাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় অনলাইনে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যা আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে পরিবারে। ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলেইমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন—কারা কর্তৃপক্ষ হয়তো তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সত্য গোপন করছে।
রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী ইমরান খানের সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবারের লোকদের প্রতি সপ্তাহে দেখা করার কথা। কিন্তু টানা তিন সপ্তাহ ধরে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি। এমনকি ইমরানের তিন বোন ১২ ঘণ্টার বেশি সময় কারাগারের সামনে অবস্থান করেও তাঁর দেখা পাননি; বরং তাঁদের জোর করে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় পাকিস্তান ও দেশের বাইরে নানা গুজব ছড়িয়েছে—ইমরানকে নীরবে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এমনকি মৃত্যুর গুঞ্জনও আছে। যদিও কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইমরান আদিয়ালায়ই আছেন এবং সুস্থ আছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানের ছেলে কাসিম বলেন, পরিবার থেকে বাবার সঙ্গে কোনো সরাসরি বা বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আপনার বাবা নিরাপদে আছেন কি না, আহত হয়েছেন কি না, এমনকি তিনি জীবিত আছেন কি না—এটা না জানা মানসিক নির্যাতনের মতো।”
ইমরানের দুই ছেলে শেষবার তাঁকে দেখেছেন ২০২২ সালের নভেম্বরে, হত্যাচেষ্টায় আহত অবস্থায়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় তাঁদের বাবার সঙ্গে কোনো বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগ হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ—ইচ্ছাকৃতভাবে ইমরান খানকে জনসম্মুখ থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাঁর নাম বা ছবি প্রচার না করার নির্দেশও রয়েছে। কারাবন্দী হওয়ার পর অনলাইনে তাঁর শুধুমাত্র একটি ঝাপসা ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
ইমরান খানের বয়স এখন ৭২। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দী। অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়, যেগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ইমরানের পরিবারের আরেক অভিযোগ—তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরিবার দেশ-বিদেশে নানা মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছে সাক্ষাতের অনুমতি আদায়ের জন্য।
কাসিম বলেন, “এটা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটা জরুরি মানবাধিকার সংকট। আমাদের জানতে হবে বাবা নিরাপদ আছেন।”