ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ – গত ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা সাম্প্রতিক ১০ দিনে গভীর সংকটের আকার নিয়েছে। দুই দেশের কূটনীতিকদের তলব এবং বিবৃতি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও ঘটেছে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের অন্তত চারটি স্থানে ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভারতও ঢাকাসহ চারটি স্থানে ভিসা সেবা স্থগিত রেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলের সময়ের ‘সোনালি অধ্যায়’ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগকে ইস্যু বানিয়ে বাংলাদেশে বিক্ষোভ চালিয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে, বিশেষ করে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফেরতের অনুরোধ, দুই দেশের উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১৮ ডিসেম্বর পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ভারত সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ডাকে।
দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে উত্তরের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য।
গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) পরামর্শ দিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়ানো উভয় দেশের জন্য প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে স্থাপন করতে পারলে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।