google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ‘ম্যাকগাইভার’-এখন-কী-করছেন:-চার-দশক-পর-রিচার্ড-ডিন-অ্যান্ডারসনের-বর্তমান-জীবন
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ম্যাকগাইভার’—এর নাম শুনলেই মনে পড়ে সেই বুদ্ধিমান গুপ্তচরের কথা, যিনি যেকোনো বিপদে হাতের কাছে থাকা জিনিসপত্র দিয়েই বানিয়ে ফেলতেন জটিল যন্ত্র। এই চরিত্রে প্রাণ দিয়েছিলেন মার্কিন অভিনেতা রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন, যাকে এখনো ভক্তরা “ম্যাকগাইভার” নামেই বেশি চেনেন।
১৯৮৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এবিসি নেটওয়ার্কে শুরু হয় ‘ম্যাকগাইভার’ সিরিজের প্রচার। সাত বছর পর, ১৯৯২ সালের ২১ মে সিরিজটি শেষ হয়। নব্বইয়ের দশকে বিটিভি–তে প্রচারের পর বাংলাদেশেও এই সিরিজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ম্যাকগাইভারের খাতা, পোস্টার, স্টিকার তখন দেদার বিক্রি হতো।
অ্যান্ডারসন ১৯৯২ পর্যন্ত ‘ম্যাকগাইভার’-এ কাজ করেন, এরপর ১৯৯৭ সালে জনপ্রিয় মার্কিন সিরিজ ‘স্টারগেট এসজি-১’–এ অভিনয় শুরু করেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন।
তবে ২০১৩ সালে ‘ডোন্ট ট্রাস্ট দ্য বি—ইন অ্যাপার্টমেন্ট ২৩’ সিটকমের একটি পর্বে দেখা যাওয়ার পর আর অভিনয়ে ফেরেননি।
অভিনয় ছাড়ার কারণ ছিল তাঁর একমাত্র মেয়ে ওয়াইলিকে সময় দেওয়া। নিজের ওয়েবসাইটে তিনি লেখেন, “যতটা সম্ভব মেয়ের পাশে থাকতে চাই।”
ম্যাকগাইভারে নিজের সব স্টান্ট নিজেই করতেন অ্যান্ডারসন। এর ফলে পা, হাঁটু ও পিঠের ব্যথা, এমনকি হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানোর মতো জটিলতাও তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শুটিংয়ের ধকল নিতে পারছিলেন না, তাই অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান।
বর্তমানে ৭৫ বছর বয়সী রিচার্ড ডিন অ্যান্ডারসন ক্যালিফোর্নিয়ার মালিবু শহরে নিজের বাড়িতে বাস করেন। মাঝে মাঝে জন্মস্থান মিনেসোটার মিনিয়াপলিসে যান। তাঁর মেয়ে ওয়াইলি এখন ২৭ বছর বয়সী এবং একজন পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন।
অ্যান্ডারসন এখন মূলত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ভ্রমণ ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ নিয়েই ব্যস্ত। মাঝে মাঝে ফ্রান্স ও জার্মানিতে আয়োজিত ‘ফ্যান মিট’–এ অংশ নিয়ে পুরোনো ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলেও ফ্রান্সে তিনি ‘ম্যাকগাইভার’-এর সময়কার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন। চার দশক পরও তিনি ভক্তদের মনে এখনো সেই বুদ্ধিমান, সাহসী ম্যাকগাইভার হিসেবেই রয়ে গেছেন।