google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আগামীকাল থেকে খুলছে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ, তবে রাত যাপন নিষিদ্ধ – পর্যটক অনীহায় শঙ্কায় জাহাজ মালিকরা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: আগামীকাল থেকে খুলছে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ, তবে রাত যাপন নিষিদ্ধ – পর্যটক অনীহায় শঙ্কায় জাহাজ মালিকরা ছবির ক্যাপশন: আগামীকাল থেকে খুলছে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ, তবে রাত যাপন নিষিদ্ধ – পর্যটক অনীহায় শঙ্কায় জাহাজ মালিকরা
ad728

টানা নয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে আগামীকাল ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এমভি কর্ণফুলীএমভি বার আউলিয়া নামে দুটি যাত্রীবাহী জাহাজকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দিনে ভ্রমণ করলেও রাতে দ্বীপে থাকা যাবে না — এ কারণে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


মাত্র এক ঘণ্টা ঘোরার সুযোগ, উৎসাহ হারাচ্ছেন পর্যটকরা

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন কক্সবাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতে পারবেন। কিন্তু ১৩–১৪ ঘণ্টার নৌযাত্রা শেষে দ্বীপে ঘোরার সময় মিলবে মাত্র এক ঘণ্টা। এরপরই আবার ফেরত আসতে হবে। এতে অনেক পর্যটকই আগ্রহ হারাচ্ছেন, কেউ কেউ বুকিং বাতিলও করছেন।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন,

“এই রুটে জাহাজ চালাতে জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ মিলে প্রতিদিন ১০ লাখ টাকার বেশি লাগে। কিন্তু অল্প যাত্রী নিয়ে গেলে আয় হয় মাত্র দুই–আড়াই লাখ। ফলে ৭–৮ লাখ টাকা লোকসান দিয়ে জাহাজ চালানো সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, ইনানী সৈকতের জেটি ব্যবহার করতে পারলে ভ্রমণ সময় কমে যেত এবং পর্যটকেরাও আগ্রহী হতেন। কিন্তু সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


সরকারের ১২টি নির্দেশনা

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নভেম্বর মাসে:

  • শুধু দিনের বেলায় দ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে, রাত যাপন নিষিদ্ধ

  • ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে সীমিতভাবে রাত যাপনের সুযোগ থাকবে।

  • বিআইডব্লিউটিএপরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না।

  • টিকিট কেবল বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে কিনতে হবে।

  • প্রতিটি টিকিটে থাকবে কিউআর কোডট্রাভেল পাস

  • ইনানী ও টেকনাফ থেকে জাহাজ চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

পরিবেশ রক্ষায় আরও কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে —
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ বা ফল সংগ্রহ, প্রবাল বা সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি, মোটরচালিত যান চলাচল এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।


ভ্রমণ আগ্রহে ভাটা

তিন বছর আগেও টেকনাফ থেকে প্রতিদিন পাঁচ–ছয় হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন যেতেন। কিন্তু রাখাইন রাজ্যের সংঘাত, ট্রলার হামলা ও অপহরণের ঘটনা বাড়ায় টেকনাফ–সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এবার কক্সবাজার রুটে জাহাজ চালুর ঘোষণা শোনে অনেকে বুকিং দিতে গেলেও টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসছেন। ঢাকার সাভারের পর্যটক আবরার হোসেন বলেন,

“বড় আশা নিয়ে কক্সবাজারে এসেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন যাওয়া হচ্ছে না।”


পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন প্রকল্প

পরিবেশ অধিদপ্তর সম্প্রতি ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন প্রকল্প’ নামে তিন বছর মেয়াদি (৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা) একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে দ্বীপের ৫০০ দরিদ্র পরিবারকে মাসে ৫,৭০০ টাকা অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্বীপটি ১৯৯৯ সালে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ECA) ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১,৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করা হয়।


🏝️ সারসংক্ষেপে:

  • ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ শুরু হচ্ছে

  • দিনে যাওয়া–আসা করা যাবে, রাত যাপন নিষিদ্ধ

  • পর্যটকের আগ্রহ কমে যাওয়ায় জাহাজ মালিকরা লোকসানের আশঙ্কায়

  • পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ