google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 17, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড ছবির ক্যাপশন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড
ad728

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আর পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

আজ সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় পড়া শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫৪ মিনিটে দণ্ড ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার রায়। ট্রাইব্যুনালের এজলাস থেকে রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক; তাঁরা দুজনই বর্তমানে ভারতে। একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুন দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পেছনে শেখ হাসিনা ছিলেন প্রধান পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার। আর মামুন তার জবানবন্দিতে জানান, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের দমনে ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছিল শেখ হাসিনার কাছ থেকেই, যা তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে পেয়েছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেড় হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

পাঁচটি অভিযোগ

আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ হলো—
১. উসকানিমূলক বক্তব্য,
২. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ,
৩. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা,
৪. ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা,
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

মামলার প্রক্রিয়া

গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। গত বছরের ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম ‘মিসকেস’ দাখিল হয়। পরে সাবেক আইজিপি মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে আসামি করা হয়।

১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর তিন আসামির বিরুদ্ধে ১ জুন আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হয়। ১০ জুলাই অভিযোগ গঠনের পর মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। মোট ৫৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ৩৯৭ দিনের প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা হলো।

ট্রাইব্যুনালের পটভূমি

২০১০ সালে প্রাথমিকভাবে যুদ্ধাপরাধ বিচার কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। ২০১২ সালে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল যুক্ত হয়। পূর্বে যুদ্ধাপরাধে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও বর্তমান পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সংশ্লিষ্ট অপরাধ গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া গুম ও হত্যার অভিযোগেও বিচার চলছে।

হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও চার মামলা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছাড়াও—
— ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ঘটনার অভিযোগে একটি মামলা,
— গুমের ঘটনার দুটি মামলা,
— এবং আরও একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাসহ মোট চারটি মামলা চলছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

আজ ঘোষিত রায় এগুলোর মধ্যে প্রথম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ