google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: দেশের-সড়ক-দুর্ঘটনার-উচ্চ-ঝুঁকি:-চিহ্নিত-২১-বিপজ্জনক-স্থান
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ মাত্রায় বেড়ে চলেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, দেশে এমন ২১টি স্থান রয়েছে, যেখানে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। গত পাঁচ বছরে (২০২০–২০২৪) সংঘটিত মোট ৩৭ হাজার দুর্ঘটনার মধ্যে ১৪ শতাংশ ঘটেছে এই ২১ জায়গায়।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হন ব্যবসায়ী বিলু চৌধুরী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শেরপুর উপজেলার উত্তরের দশমাইল থেকে দক্ষিণের সীমাবাড়ি পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এ এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের রাস্তা পার হতে হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে মোট ৩৭ হাজার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ হাজার ২৫৬ জন।
এর মধ্যে শুধু উচ্চ ঝুঁকির এই ২১ এলাকায় নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৯ জন।
এই ২১টি স্থান হলো:
ঢাকা ও ধামরাই, গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, টাঙ্গাইলের কালিহাতী, মাদারীপুরের শিবচর ও টেকেরহাট, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, পাবনার ঈশ্বরদী, বগুড়ার শেরপুর, নাটোরের বড়াইগ্রাম, চট্টগ্রামের মিরসরাই, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, কক্সবাজারের চকরিয়া, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, বরিশালের গৌরনদী, হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা।
মিরসরাই উপজেলার বড় দারোগারহাট থেকে ধুমঘাট সেতু পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার এলাকাটি সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ। গত এক বছরে এখানে ৮২টি দুর্ঘটনায় ৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, ভোরবেলায় ঘুমন্ত বা ক্লান্ত চালকদের কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া অবৈধ তিন চাকার যান, অসতর্ক পারাপার এবং রাস্তার খানাখন্দ দুর্ঘটনার বড় কারণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, এলাকার ভিন্নতার ভিত্তিতে দুর্ঘটনার কারণও ভিন্ন। প্রধান কারণগুলো হলো:
বড় সড়কে ছোট তিন চাকার যানবাহনের চলাচল
রাস্তার পাশে হাটবাজার ও বাস কাউন্টার
নতুন সড়কে অবৈধ যানবাহনের চলাচল
দ্রুতগতির গাড়ি ও চালকের ক্লান্তি
বাংলাদেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা সাড়ে ৬৪ লাখ, তবে বুয়েটের তথ্য অনুযায়ী নিবন্ধনবিহীন ছোট যানবাহন প্রায় ৭০ লাখ।
পরিবহনবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,
“আমাদের সড়কে এক চরম বৈপরীত্য দেখা যায়। অবকাঠামো উন্নত হলেও পরিচালন নীতির অভাবে সড়কে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।”
বিআরটিএর পরিচালক সীতাংশু শেখর বিশ্বাস জানান, দুর্ঘটনার স্থান চিহ্নিত করার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তবে ছোট যানবাহনের বাস্তবতা মেনে তাদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজারো প্রাণহানি ঘটছে। শুধু সড়ক উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে স্থানভিত্তিক পদক্ষেপই পারে দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।