google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: যশোরে সাবেক এমপি রণজিত রায়ের ১৪ বিঘা জমি দখল, বিএনপি কর্মীদের চাষাবাদ
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) রণজিত কুমার রায় ও তাঁর দুই ছেলের প্রায় ১৪ বিঘা জমি দখল করে সেখানে আমন ধান ও সবজি চাষ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা এই জমিগুলো দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন।
রণজিত কুমার রায় যশোর–৪ (অভয়নগর, বাঘারপাড়া ও যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের তিনবারের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আত্মগোপনে আছেন।
বাঘারপাড়ার খাজুরা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্দবিলা ইউনিয়নের সেকেন্দারপুর ও চাঁপাতলা মৌজায় রণজিত রায় ও তাঁর দুই ছেলের ৬৫১ শতক জমি রয়েছে, যার বেশির ভাগই ধানি জমি। বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের আয়াপুর মৌজায় তাঁর আরও ৩৮ শতক জমি আছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে এই জমিগুলো বর্গাচাষিরা রণজিত রায়ের কাছ থেকে নিয়ে চাষ করতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে জমিগুলো পতিত পড়ে ছিল। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতারা বর্গাদারদের নিষেধ করেন এবং নিজেরাই ধানের চারা রোপণ করেন। কিছু জমিতে ঢ্যাঁড়স ও লাউ চাষও করা হচ্ছে।
চাঁপাতলা গ্রামের মাঠে রণজিত রায়দের প্রায় ৯ বিঘা জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশে থাকা ছয় বিঘার মেহগনিবাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সেকেন্দারপুর গ্রামের তিন বিঘা জমিতেও আমন ধান রোপণ করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রায় এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কামাল হোসেন, আলাউদ্দিন (আলা), আশরাফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান এবং আবদুর রহিম—এই পাঁচজন বিএনপি কর্মী রণজিত রায়ের জমিতে চাষ করছেন।
বিএনপি কর্মী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমি সেকেন্দারপুরের উত্তরের মাঠে ধান চাষ করছি, আনিসুর ঢ্যাঁড়স লাগিয়েছে। তবে চাঁপাতলার মাঠে আমি চাষ করছি না।”
আয়াপুর গ্রামের ৩৮ শতক জমিতে করলা শেষ করে এখন লাউ চাষ হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এই জমি বাগারপাড়ার বিএনপি নেতা আক্কাস বিশ্বাস হেফাজতে নিয়ে চাষ করছেন।
আক্কাস বলেন, “৩৩ শতকে আমন ধান করেছি, আর বাকি পাঁচ শতকে লাউ চাষ করছি। রণজিত রায় বা তাঁর পরিবার ফিরে এলে জমি দিয়ে দেব।”
সেকেন্দারপুর গ্রামের আবদুর রহিম দাবি করেছেন, “৪০ বছর ধরে আমি ওই জমিতে ধান চাষ করি।”
তবে বর্গাচাষি কওছার আলী অভিযোগ করেন, “আমার পরিবার ৫০ বছর ধরে ওই জমিতে ধান চাষ করছে। কিন্তু রহিম জোর করে দখল করে নিয়েছে।”
বন্দবিলা ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি হাশেম আলী বলেন, “কামাল, আলাউদ্দিন, আনিসুর ও আশরাফুল রণজিত রায়ের জমিতে চাষ করছে—এটা সত্যি। আমি ওদের বলেছি, পরের জমি চাষ করো না।”