১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনার সেনহাটি গ্রামের আবদুস সালাম খানের চার মাস বয়সী কন্যা রেহানাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিকামী পিতা আবদুস সালাম খানের জন্য শিশুটির মৃত্যুই ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতি। রেহানার কোনো ছবি না থাকায় তিনি মেয়ের ছোট্ট গায়ের জামাটিকে কাচের ফ্রেমে বাঁধিয়ে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখেছিলেন।
ফিকে হলুদ রঙের সুতি জামাটি বুকের সামনে খয়েরি ফিতার মতো কাপড় দিয়ে সজ্জিত। আজ এটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ২ নম্বর গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়, যেখানে ছোট্ট রেহানার সঙ্গে ঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণও সংরক্ষিত।
আবদুস সালাম খান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী বীর ছিলেন। তিনি গ্রামের তরুণদের সংগঠিত করে স্বাধীনতার জন্য প্রশিক্ষণ দিতেন। পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে না পেয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে চার মাসের কন্যাকে বাড়ির উঠানে পিষে হত্যা করে চলে যায়। সালাম খান গভীর রাতে মরদেহটি পরিচ্ছন্ন করে রূপসা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে আবার যুদ্ধের জন্য ফিরে যান।
পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা হলে সালাম খান নিজে এসে রেহানার জামাটি দান করেন। তিনি প্রায়শই ঢাকায় আসতেন শুধু মেয়ের স্মৃতিচিহ্ন দেখার জন্য। তিনি ২০০৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, “রেহানার জামা প্রমাণ দেয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় শিশু পর্যন্ত গণহত্যার শিকার হয়েছিল। এটি আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।”
রেহানার জামা শুধু বেদনাবিধুর স্মৃতিচিহ্ন নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম ও আত্মদানের ইতিহাসের এক অমলিন চিহ্ন।