google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ক্ষমতাচ্যুত দিনা বলুয়ার্তে, পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট হোসে হেরি
সর্বসম্মত ভোটে পেরুর পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট দিনা বলুয়ার্তেকে অভিশংসিত করার পর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন কংগ্রেসপ্রধান হোসে হেরি।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) প্রথম প্রহরে অনুষ্ঠিত সংসদীয় ভোটে ‘নৈতিক অযোগ্যতা’র অভিযোগে বলুয়ার্তেকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তার বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়।
অপসারণের ঘটনাটি ঘটে বুধবারের এক সহিংস ঘটনার পর, যেখানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এক ভেন্যুতে কনসার্ট চলাকালে গুলিতে জনপ্রিয় কুম্বিয়া ব্যান্ড আগুয়া মারিনার কয়েকজন সদস্য আহত হন।
বলুয়ার্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিলাসবহুল ঘড়ি সংক্রান্ত ‘রোলেক্সগেট’ কেলেঙ্কারি, এবং ক্রমবর্ধমান অপরাধ দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছিল বিরোধী দলগুলো।
৩৮ বছর বয়সী হোসে হেরি রক্ষণশীল সোমোস পেরু দলের সদস্য। তিনি জুলাই মাসে কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর হেরি প্রতিশ্রুতি দেন, “পেরুর মূল শত্রু রাস্তায়—অপরাধী গ্যাং। অপরাধ দমনে আমরা কঠোর হবো।”
বলুয়ার্তেকে অপসারণের পর লিমায় কংগ্রেস ভবন ও ইকুয়েডর দূতাবাসের সামনে জনতা পতাকা নেড়ে ও বাজনা বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, বলুয়ার্তে ইকুয়েডরে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে পারেন।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলুয়ার্তে বলেন, “যে কংগ্রেস আমাকে ২০২২ সালে শপথ পড়িয়েছিল, আজ সেই কংগ্রেসই আমাকে সরিয়ে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিয়ো সংসদ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলুয়ার্তে।
কাস্তিয়োর অপসারণের পর দেশজুড়ে সহিংসতা দেখা দেয়, বিশেষ করে আন্দিয়ান ও আদিবাসী এলাকায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলুয়ার্তের সরকারকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে নিজের বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেন বলুয়ার্তে, যা জনরোষ আরও বাড়ায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট না থাকায় পার্লামেন্ট শেষ পর্যন্ত হোসে হেরিকেই তার উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয়।
বলুয়ার্তের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগ থাকলেও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ৬৩ বছর বয়সী এই নেত্রীর সমর্থন সর্বনিম্ন ২–৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
ডানপন্থি দলগুলোর সমর্থনেই এবার তার অপসারণ সফল হয়। ইতিমধ্যে ডানপন্থি রাজনীতিক রাফায়েল লোপেজ ও কেইকো ফুজিমোরি ২০২৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।