google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বৃষ্টি-ধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যা থেকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও আশপাশের জেলাগুলিতে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে মিরিকে। রাতের টানা বৃষ্টিতে দুধিয়া-মিরিকের মাঝামাঝি একটি লোহার সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। তখন সেতুর উপর দিয়ে চলাচলরত অন্তত ৯ জন প্রবল স্রোতে ভেসে যান। তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুখিয়ায় মারা গেছেন আরও সাতজন, বিজনবাড়িতে এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার থেকেই নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১২ ঘণ্টা ধরে টানা তুমুল বৃষ্টি হয়েছে, সাত জায়গায় ধস নেমেছে। সোমবার তিনি স্বয়ং উত্তরবঙ্গে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। ভুটানে প্রবল বর্ষণের কারণে উত্তরবঙ্গে জল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, দার্জিলিংয়ের এই দুর্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে মৃতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। কেন্দ্র সর্বদা নজর রাখছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধস নেমে একাধিক রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জাতীয় সড়ক ১০-এ তিস্তার পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ। শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক এবং দার্জিলিং যাওয়ার প্রধান রাস্তাগুলিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। রোহিণী রোডের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে নদীতে।
এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জন্য রক গার্ডেন ও টাইগার হিল বন্ধ ঘোষণা করেছে জিটিএ। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে।
প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় দিশাহারা হয়ে গ্রামে চলে আসছে বন্যপ্রাণীরা। ইতিমধ্যেই দুটি হরিণকে উদ্ধার করা হয়েছে। একাধিক নদী বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে, ফলে আরও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।