google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ, সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ, সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে ছবির ক্যাপশন: দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ, সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে
ad728

অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা আরও কিছু সময় নিতে চেয়েছেন। দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

সরকারি সূত্রে জানা যায়, মাহফুজ আলম এখন পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি; তিনি সরকারেই থাকতে চান। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

দুই উপদেষ্টার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ সাড়া দেননি। তবে গত ১৪ আগস্ট আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর মাহফুজ আলম বলেন, “দুই মাস ধরে আমি অনিশ্চয়তায় আছি—আমি কখন নামব, জানি না।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টাসহ ২৩ জন সদস্য রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি।

সূত্র বলছে, ছাত্র প্রতিনিধিদের কেউ উপদেষ্টা পরিষদে শেষ পর্যন্ত থাকুক—এমনটাই চান তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, উপদেষ্টা পরিষদে কেউ না থাকলে কিছু মহল তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে।

প্রসঙ্গত, সরকার গঠনের সময় ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন নাহিদ ইসলাম। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্বের দল।

মাহফুজ আলম প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব নেন (২৮ আগস্ট ২০২৪)। পরে ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হন এবং নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের পর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ প্রথমে শ্রম ও যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন; পরে তাঁকে স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টা এনসিপির ঘনিষ্ঠ এবং পরামর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন। গত ১৪ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সংকটের সময় তাঁরা এনসিপি নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন।

এনসিপি নেতাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় বিভিন্ন দলের প্রস্তাব থেকে উপদেষ্টাদের নির্বাচন করা হয়েছিল। তাই শুধু দুই ছাত্র প্রতিনিধি উপদেষ্টাকে সরে যেতে বলা হলে সেটি “অন্যায্য” হবে।

গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকেও এনসিপি নেতারা এই বিষয়টি তুলেছেন বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে যেসব বক্তব্য আসছে, তা সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এতে জনগণের মনে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার উচিত সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া।”

তিনি আরও বলেন, “দুই ছাত্র উপদেষ্টার উচিত পদত্যাগ করা অথবা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া যে তাঁরা নির্বাচন করবেন না এবং এনসিপির সঙ্গে তাঁদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই।”


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ