google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বৈশ্বিক অস্থিরতায় রেকর্ড দামে সোনা, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে
বৈশ্বিক বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। ভরিপ্রতি সোনার দাম এখন দুই লাখ টাকার বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দাম এত বাড়লেও শিগগিরই স্বস্তির কোনো লক্ষণ নেই—বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরও সোনার দাম বাড়তেই পারে।
বিশ্ববাজারে সোমবার একপর্যায়ে প্রতি আউন্স (৩১.১০ গ্রাম) সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ১০০ ডলার ছুঁয়েছে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় এই দাম ছিল ১ হাজার ৯০০ ডলার। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে সোনার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চও ধারণা দিয়েছে, আগামী বছর দাম ৫ হাজার ডলারে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা কেনা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বাণিজ্যযুদ্ধ, ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনাকে বেছে নিচ্ছেন।
চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম ছিল প্রতি আউন্সে ২ হাজার ৬২৪ ডলার; বর্তমানে তা ৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে—অর্থাৎ, ১০ মাসে দাম বেড়েছে ৫৬ শতাংশেরও বেশি।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে ৪ হাজার ৯৭৫ টন সোনা সরবরাহ হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬৬১ টন আসে খনি থেকে, আর ১ হাজার ৩৭০ টন পুরোনো সোনা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। অলংকার তৈরির চাহিদা কিছুটা কমলেও বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার প্রবণতা বেড়েছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাবেই দেশে সোনার দাম বাড়ছে ধাপে ধাপে। গতকাল ভরিপ্রতি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা, যা এক মাসে বেড়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
বৈধ পথে সোনা আমদানির সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে ‘ব্যাগেজ রুলস’-এর মাধ্যমে আসা সোনাই বড় জোগান হিসেবে কাজ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভরিপ্রতি কয়েক হাজার টাকা বেশি দাম পড়ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম বাড়ার পরও বিয়ে-শাদি ও বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ক্রেতারা অলংকার কিনছেন। তবে অনেকে হালকা ওজনের গয়নায় ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সোনার দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তবে যেসব সামর্থ্যবান পরিবারে আগামী দুই–তিন বছরে বিয়ে-শাদি রয়েছে, তারা আগেভাগেই অলংকার বানাচ্ছেন। ফলে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।”
বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে সোনার বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।