google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: শারীরিক-আঘাতের-চেয়ে-ভয়াবহ:-শিশুর-উপর-মানসিক-নির্যাতনের-প্রভাব
ছোট একটি বাক্য একজন মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে পারে। লাঠি বা পাথর মানুষের হাড় ভেঙে ফেলতে পারে; কিন্তু কথা দিয়ে মানুষের মনোবল ভেঙে ফেলা সম্ভব। কারও আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়া শারীরিক আঘাতের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন বা ইমোশনাল অ্যাবিউজ শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠায় মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
সাধারণত একজন ব্যক্তি আরেকজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা থেকেই ইমোশনাল অ্যাবিউজ করে। অনেক পরিবারে বড়দের দ্বারা এমন আচরণের শিকার হয় শিশুরা। মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন শারীরিক নির্যাতনের মতোই ভয়াবহ। শৈশবে এই ধরনের মানসিক নির্যাতন শিশুর বিকাশে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের প্রভাব ফেলে।
শাসন যখন মানসিক নির্যাতন:
সন্তান বড় করতে গিয়ে মা–বাবারা বিভিন্ন নিয়ম বেঁধে দেন। কঠোর ভালোবাসার আড়ালে শিশুদের বারবার তিরস্কার করা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা শিশুর মধ্যে হীনম্মন্যতা, ভয় এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করে। অভিভাবকরা প্রায়ই নিজের আচরণকে ‘তোমার ভালো জন্যই’ বলে যৌক্তিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, যা শিশুর ওপর চাপ বাড়ায়। আবেগজনিত নির্যাতন শিশুকে তার স্বাভাবিক ও সুস্থ আচরণ প্রকাশ থেকে বঞ্চিত করে।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব:
শিশু স্বাভাবিকভাবেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে বেশি মনে রাখে। শৈশবে পাওয়া মানসিক আঘাত প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও তার ওপর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের শব্দ বা আচরণ শোনার ফলে শিশুর মস্তিষ্কে তা গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। এমন অভিজ্ঞতা মানুষকে অন্যদের ওপরও মানসিক নির্যাতন প্রয়োগ করতে শেখায়। শৈশবে মানসিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলে উদ্বেগ, হতাশা এবং আত্মসম্মানের ঘাটতিতে ভুগেন এবং স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও দ্বিধা অনুভব করেন।