জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ঐকমত্য কমিশনে অংশ নিয়ে ফাঁদে পড়েছে। তবে তিনি কোন দলগুলোর কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
শনিবার বিকেলে রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোডে জাপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে ঐকমত্য কমিশনে গিয়ে বা স্বাক্ষর করে একধরনের ফাঁদে পড়েছে। এখন কিছু দল বলছে, ঐকমত্য কমিশন তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। প্রতারক ও প্রতারণা—এই শব্দগুলো এখন উচ্চারিত হচ্ছে। অথচ আমরা তো এমন কোনো সংস্কার চাইনি।”
তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঐক্য গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশন ৫৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি দলকে বাদ দিয়েছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যেও নানা মতভেদ রয়েছে—কেউ পুরোপুরি যুক্ত, কেউ আংশিক যুক্ত, আবার কেউ অংশ নিয়ে পরে বিরোধিতা করেছে।
বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নিয়ন্ত্রণে আছে দাবি করে জাপা মহাসচিব বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। নির্বাচিত সরকার নিজে থেকেই ভোট করেছে, নির্বাচন প্রভাবিত করেছে। এখনকার প্রশাসনিক কাঠামো বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির কথামতো সাজানো। এই কাঠামোয় অন্য কোনো দল ন্যায্য ভোট পাবে না।”
গণভোট প্রসঙ্গে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “সংবিধানে বর্তমানে গণভোটের কোনো প্রভিশন নেই। সংসদে পাস হওয়ার আগেই যদি গণভোট দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে সেটি ঐকমত্য কমিশনকে সংসদের মর্যাদা দেওয়ার শামিল হবে। ঐকমত্য কমিশন নির্বাচিত নয়, সার্বভৌমও নয়। সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো আইন পাস হলে তা সংবিধানবিরোধী হবে।”
কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন জাপার কো–চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির, রংপুর জেলা আহ্বায়ক আজমল হোসেন, সদস্যসচিব হাজী আবদুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতা–কর্মী।