google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জাতীয় নির্বাচন সামনে, জনপ্রশাসন সচিবের চেয়ার নিয়ে অচলাবস্থা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ ১৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে—যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রেকর্ড। এতো দীর্ঘ সময় সচিববিহীন থাকার নজির এর আগে কখনো ছিল না। বর্তমানে কেবল রুটিন দায়িত্বে চলছে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, ফলে প্রশাসনিক কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
সচিব নিয়োগে দেরি হওয়ায় প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা সরকারের দূরদর্শিতার ঘাটতি দেখছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিবের পরই ক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে এবার সিনিয়র সচিবরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সদ্য বিদায়ী সচিব ড. মোখলেস উর রহমানের সময়ে নানা রদবদল, ডিসি কেলেঙ্কারি ও তদবির ঘিরে বিতর্কে মন্ত্রণালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ায় কর্মকর্তারা এই পদ নিতে অনাগ্রহী হয়েছেন বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাঠ প্রশাসন সাজানো, নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক চাপ সামলানোর দায়িত্ব থাকবে নতুন সচিবের ওপর। কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে এই পদে থাকা মানেই বাড়তি ঝুঁকি, ওএসডি হওয়ার সম্ভাবনা এবং দুর্নামের আশঙ্কা—এসব কারণেই অনেক সিনিয়র সচিব এই দায়িত্ব নিতে চাইছেন না।
সরকার কয়েকজন সিনিয়র সচিবকে প্রস্তাব দিলেও তারা রাজি হননি। আলোচনায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মো. এহছানুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ড. নাসিমুল গনি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আখতার আহমেদ। এঁরা কেউই দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি।
তবে বিকল্প হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলামের নামও আলোচনায় আছে। যদিও রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে তাদের নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না অথবা যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব আলমকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও সরকার ভাবছে। মাহবুব আলম পূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাজ করায় তাঁর অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গতকাল জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও রাত পর্যন্ত কোনো সামারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত হতে পারে।