মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এই রায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেওয়া হয়েছে—যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত নেতাদের বিচারে সে মান বজায় রাখা হয়নি।
আজ সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর বিকেলে ঢাকায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিক্রিয়া জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এতে ভারত সরকারের ন্যায়বিচারবিরোধী অবস্থান পাল্টানোর সুযোগ তৈরি হবে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আহত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষা করা পরিবারগুলোর আশা পূরণ হয়েছে এই রায়ের মাধ্যমে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম ও ক্রসফায়ারসহ অন্যান্য সব অভিযোগের বিচারও দ্রুত হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজকের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জামায়াত নেতাদের বিচারের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে সাজানো মামলা, সাজানো সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক মানবহির্ভূত প্রক্রিয়ায় তাদের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা দেশ–বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্কাইপ কেলেঙ্কারি ও সাক্ষী গুমের মাধ্যমে যে নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আর কখনো ফেরত পাওয়া যাবে না—এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক।
আজকের রায় ঘিরে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা শাটডাউনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে তারা কোথাও দাঁড়াতে পারছে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ ও আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।