দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় চলতি সপ্তাহেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়েছে বহু এলাকা। জ্যামাইকা ও ব্রাজিলে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসস্তূপ এখনো চোখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে কিভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়েই আলোচনায় বসেছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩০)।
সম্মেলনের প্রথম দিনে আলোচনার মূল বিষয় ছিল পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। কারণ, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে জলবায়ুর করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং তা কমাতে দেশগুলো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৩১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা প্রয়োজন।
কিন্তু এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও অর্থ ছাড় দিতে বিশ্বের ১০টি উন্নয়ন–সংক্রান্ত ব্যাংক চাপের মুখে। সোমবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় দেশের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। গত বছরে তারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে ২৬ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছিল।
এইবারের কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রাজিলের বেলেম শহরে। জাতিসংঘের বিভিন্ন তহবিল পরিচালকেরা জানিয়েছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ২০ কোটি ডলারের তহবিল গড়ার উদ্দেশ্যে নতুন একটি বন্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই বন্ডের ধারণা গত বছর আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ২৯–এ করা হয়েছিল।
সোমবার জার্মানি ও স্পেন ১০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নতুন জলবায়ু উদ্যোগ সিআইএফ (Climate Investment Fund)–এর মাধ্যমে। এর লক্ষ্য হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চরম জলবায়ুর বিরুদ্ধে টেকসই করে তোলা। সিআইএফের প্রধান নির্বাহী তারিয়ে গবাদেগেসিন বলেন,
“প্রথমবারের মতো কপের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।”