google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জুলাই জাতীয় সনদে ২৪ দলের সই, অনুপস্থিত ৬ দল
জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছে ২৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটের ৪৮ জন নেতা। মোট ২৫টি দল ও জোটের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও ১টি বাদে বাকি সবাই সনদে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নেয়।
সনদে সই করা দলের মধ্যে ২২টি একক দল ও ২টি জোট—১২-দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। এর মধ্যে ১৮টি দলের নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে, ৪টি দলের নেই। দুই জোটের পক্ষে মোট চারজন নেতা সই করেছেন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের দল নিবন্ধনহীন। প্রতিটি দল ও জোটের পক্ষে দুজন করে প্রতিনিধি সনদে স্বাক্ষর করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, সই করা দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—
এলডিপি, খেলাফত মজলিস, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), নাগরিক ঐক্য, এনডিএম, বিএনপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, জেএসডি, গণ অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২-দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট ও আমজনতার দল।
সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি অংশগ্রহণকারী দলের নেতাদের স্বাক্ষর যাচাই করেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নেওয়া ছয়টি দল সনদে সই করেনি। এগুলো হলো—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ জাসদ ও গণফোরাম।
এনসিপি আগেই জানিয়েছিল, সনদের আইনি ভিত্তি না থাকায় তারা এতে সই করবে না। অন্যদিকে চারটি বাম দল সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, সব দলের ঐকমত্য না হওয়া, সংশোধনী প্রস্তাব আমলে না নেওয়া এবং ইতিহাসের বিকৃত উপস্থাপনার কারণে তারা স্বাক্ষর করবে না।
গণফোরাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সনদে সই করেনি। দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সনদে কিছু পরিবর্তন এসেছে বলে তাঁরা জেনেছেন; কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্য নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দুই পর্বে মোট ৬৩টি দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা শেষে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫২। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এই আলোচনা থেকে ১৪-দলীয় জোটকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ঐকমত্য কমিশন বলছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা দলগুলোকেই আলোচনায় ডাকা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “৩০টি দল ও জোট আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, ২৪টি সই করেছে—এটা সংখ্যার দিক দিয়ে খারাপ নয়। তবে এনসিপির অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা তরুণেরা দলটি গঠন করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে ‘জাতীয়’ শব্দটি সহজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু রাজনীতি একধরনের খেলা—এখানে পরাজিতদের মতামত টিকে থাকে না। আজকের বাস্তবতায় আদর্শের জায়গা অনেকটাই সঙ্কুচিত।”