google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল ও আরপিও সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটছে একের পর এক পরিবর্তন। রাজনৈতিক মেরুকরণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের তৎপরতা চলছে। অনেকে আবার কৌশলগতভাবে সব দরজা খোলা রেখে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যাচাই করছেন।
রাজনীতিতে এখন নীতির চেয়ে কৌশলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘১৯৪৭ থেকে সব ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা’ কিংবা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনের পর ‘জাতীয় সরকার গঠনের ঘোষণা’—সবই এই কৌশলগত রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি তৈরির আগেই জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এই সংশোধনীতে অনেক ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে, যেমন—
প্রার্থীদের দেশ-বিদেশের আয় ও সম্পদের হিসাব জমা দেওয়া,
অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিল,
পলাতক আসামিদের প্রার্থিতা বাতিল,
৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহণের বাধ্যবাধকতা।
এসব উদ্যোগ নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে বিতর্ক দেখা দিয়েছে কয়েকটি বিষয়ে—
সবচেয়ে আলোচিত হলো: জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। সমালোচকেরা বলছেন, এটি দলীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। অতীতে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন জোট যৌথভাবে অন্য দলের প্রতীকেও ভোট করেছে—তাতে কোনো সমস্যা হয়নি।
বিএনপি বলেছে, এই পরিবর্তন তারা মানবে না। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “জোটভুক্ত হলে আগের বিধানটি বহাল রাখা উচিত ছিল।”
অন্যদিকে জামায়াত মনে করছে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করাই উত্তম; এতে প্রতিটি দলের নিজস্বতা বজায় থাকে।
আরেকটি বড় সংশোধনী হলো—মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থাকলে তিনি জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এতে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ নেতাদের অনেকের নির্বাচন-অযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তাছাড়া আরপিওর খসড়ায় আইন প্রয়োগকারী সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে তিন বাহিনীর সদস্যরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকতে পারবেন, আলাদা নির্দেশ ছাড়াই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আইনি ও বাস্তব—দুটি দিকেই প্রশ্ন তৈরি হবে। নির্বাচনের মতো বেসামরিক দায়িত্বে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত অবস্থানকে বিতর্কিত করতে পারে। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও অনেকে মনে করছেন।
সব মিলিয়ে—কৌশল, সংশোধনী ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত সময় পার করছে।