google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে গণভোট ও সনদ’ — মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কিছু শিক্ষিত মানুষ দেশের ওপর গণভোট ও সনদের মতো বিষয় চাপিয়ে দিচ্ছেন। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “কয়েকটা দল বলছে, নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। আমরা বলছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে।” এরপর তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? এসব বোঝেন শিক্ষিত কিছু ওপরতলার লোক, যারা আমেরিকা থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরাও সংস্কারের পক্ষে। তাঁরা যতগুলো সংস্কার করতে চান, আমরা তাতে রাজি আছি। যেটাতে রাজি হব, সেটা বাস্তবায়িত হবে, আর যেটাতে রাজি হব না, সেটা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।”
দেশের বর্তমান সংকটকে ‘সৃষ্টি করা নাটক’ বলে অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সাধারণ মানুষ এসব বোঝে না, তারা শুধু ভোট দিতে চায়। গত ১৫ বছর আমরা কোনো নির্বাচন করতে পারিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলাম, ২০১৮ সালে অংশ নিয়েও ভোটের আগের রাতে ভোট নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার আমরা সবাই ভোট দিতে চাই।”
গণ–অভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। নিজের দলের কর্মী ও সমর্থকদের অসহায় অবস্থায় রেখে তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন। এতে বোঝা যায়, তাঁর জনগণের প্রতি কোনো দরদ নেই। কিন্তু আমরা এই দেশের মানুষ, এখানেই জন্মেছি, এখানেই মরব—দেশ ছেড়ে কখনো যাব না।”
কৃষকদের দুরবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধানের দাম নেই, আলুতেও ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা আর লাভবান হতে পারছেন না। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষক যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেই ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। আমরা সবাই মিলে তাদের দায়িত্ব দিয়েছি। সরকারের পেছনে জনসমর্থন না থাকায় তারা মানুষের কষ্ট বোঝে না, কৃষকের কষ্ট বোঝে না।”
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমার বয়স অনেক হয়ে গেছে, শরীরও তেমন ভালো নেই। তাই এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি এই আসন থেকেই সব সময় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি—কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি, কিন্তু জনগণকে ছেড়ে যাইনি।”
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমার শেষ নির্বাচনে আমাকে সহযোগিতা করুন। ধানের শীষে ভোট দিন, আমাকে আপনাদের পাশে কাজ করার সুযোগ দিন।”
মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।