ভারতের ঘরের মাঠে একসময় অজেয় ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩–০ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২–০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে। গুয়াহাটি টেস্টে ভারত হেরেছে ৪১৮ রানে, যা ভারতের টেস্ট ইতিহাসে রানের বিচারে সর্ববৃহৎ পরাজয়।
এই হারের পর ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিরিজ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর বলেন, “দল ও কোচিং সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিসিসিআইয়ের, ভারতীয় ক্রিকেটই গুরুত্বপূর্ণ, আমি নয়।”
সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, গম্ভীর টেস্ট দলকে অস্থির করছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবর্তে আইপিএল ভিত্তিক দল নির্বাচন, অলরাউন্ডার খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ব্যাটিং অর্ডার বারবার পরিবর্তনের কারণে দলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩ নম্বরে ব্যাট করা অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর গুয়াহাটি টেস্টে ৮ নম্বরে ব্যাট করেছেন।
এদিকে, গম্ভীরের অধীনে ভারত এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, “আমি সেই একই ব্যক্তি, যিনি ইংল্যান্ডে তরুণ দল নিয়ে ভালো ফল এনেছিলাম এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও এশিয়া কাপ জিতেছি।” তার কোচিং চুক্তি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে পালাবদল চলছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও অশ্বিন টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন। শুবমান গিলকে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়েছে। গুয়াহাটিতে ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্পষ্ট ছিল, সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২০১ রান।
গম্ভীরের মতে, দলে শীর্ষ আট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অনেকের টেস্ট অভিজ্ঞতা ১৫ ম্যাচের কম, তাই খেলোয়াড়দের সময় দিয়ে তাদের প্রতিভা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, দলে প্রতিভা ও সামর্থ্য আছে, যা ধীরে ধীরে ফলপ্রসূ হবে।