প্রায় চার দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাশুল বাড়ানো হয়েছে। নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালের পর এ বছরই প্রথম এই মাশুল বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা কমানোর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মাশুল সমন্বয় করা উচিত ছিল, কিন্তু দীর্ঘদিন তা হয়নি।
আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক অপারেটর আসছে ডিসেম্বরেই
নৌপরিবহন সচিব জানান, চট্টগ্রামসহ দেশের তিনটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “বিদেশি অপারেটরদেরও মুনাফা দেখতে হয়, তাই মাশুল কমানো সম্ভব নয়। সমীক্ষার ভিত্তিতেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও হারটি কিছুটা বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “এই অপারেটরদের ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হবে। এতে টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়বে এবং লিড টাইম কমবে। প্রয়োজনে এসব চুক্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।” ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অপারেটর ইতিমধ্যেই কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কর অবকাশ পুনর্বহালের দাবি
সেমিনারে আজম জে চৌধুরী বলেন, ২০৩০ সাল পর্যন্ত সমুদ্রগামী জাহাজ খাতে কর অবকাশ দেওয়া ছিল, যার ফলে দেশীয় জাহাজের সংখ্যা বেড়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার এই সুবিধা বাতিল করেছে, ফলে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি কর অবকাশ পুনর্বহালের আহ্বান জানান।
জাহাজ নির্মাণ খাতে সম্ভাবনা
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার মূল প্রবন্ধে বলেন, পোশাক খাতের বাইরে বর্তমানে চার-পাঁচটি খাত বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে। ভবিষ্যতে জাহাজ নির্মাণশিল্পও একই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এ জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।