আজ সোমবার সকালে বিশ্বের ১২৭টি নগরীর মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ রাজধানী ঢাকা। সকাল ১০টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, ঢাকার গড় বায়ুমান সূচক (AQI) ছিল ১৫২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রার মধ্যে পড়ে।
রাজশাহী ও খুলনায় আরও খারাপ অবস্থা
ঢাকার চেয়ে বেশি দূষিত বাতাসে ভুগছে দেশের দুই বিভাগীয় শহর রাজশাহী ও খুলনা। আজ রাজশাহীর বায়ুমান সূচক ১৬৭, যা সবচেয়ে খারাপ, আর খুলনার বায়ুমান ১৫৭।
২০১৬ সালে রাজশাহী ছিল বিশ্বের অন্যতম ‘পরিষ্কার বাতাসের শহর’—সেই শহরই এখন দূষণে শীর্ষে।
অন্যান্য শহরের পরিস্থিতি
আজ সকাল পর্যন্ত অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোর বায়ুমান সূচক—
-
রংপুর: ১৩৭
-
বরিশাল: ১১৪
-
ময়মনসিংহ: ১১৩
-
সিলেট: ৮২
-
চট্টগ্রাম: ৭৩
রাজশাহীর হারানো গৌরব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাজশাহীর বাতাসে ক্ষুদ্র ধূলিকণার পরিমাণ তখন দুই বছরে কমে আসে ৬৭ শতাংশ।
২০১৪-১৫ সালে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ধূলিকণা (PM10) ছিল ১৯৫ মাইক্রোগ্রাম, যা ২০১৬ সালে নেমে আসে ৬৩.৯ মাইক্রোগ্রামে। আরও ক্ষুদ্র কণা (PM2.5) কমে ৭০ থেকে ৩৭ মাইক্রোগ্রামে দাঁড়ায়। এই অগ্রগতি রাজশাহীকে সেই সময় বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত দূষণ কমানো শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
আইকিউএয়ারের পরামর্শ
বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরবাসীর জন্য আইকিউএয়ার কিছু স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়েছে:
-
ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।
-
জানালা বন্ধ রাখতে হবে, যেন বাইরের বাতাস না ঢোকে।
-
বাইরের ব্যায়াম যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।
-
অস্বাস্থ্যকর বায়ুর এলাকায় দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে।
বায়ুদূষণের ভয়াবহ প্রভাব
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এখন মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুর সবচেয়ে বড় হুমকি। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের (EPIC) সাম্প্রতিক এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (AQLI) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশের মানুষের আয়ু গড়ে সাড়ে পাঁচ বছর কমছে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের মার্চে প্রকাশিত “বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্ট অ্যানালিসিস (CEA)” প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে পরিবেশদূষণে ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষের অকালমৃত্যু হয়, যার মধ্যে ৫৫ শতাংশ মৃত্যু বায়ুদূষণজনিত।
দূষণের কারণে সেই বছর বাংলাদেশের জিডিপির ১৭.৬ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বৈশ্বিক চিত্র
সিঙ্গাপুরের নানিয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে।
এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বায়ুদূষণ এখন শুধু পরিবেশগত নয়, মানবজাতির অস্তিত্বেরই হুমকি।