google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: দুই দিনে পর্যটক যেতে পারেননি, কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত
নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও দুই দিনে একজনও পর্যটক যেতে পারেননি। কারণ, কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে দুটি ১,৭০০ জন ধারণক্ষমতার জাহাজ—এমভি কর্ণফুলী ও এমভি বার আউলিয়া—চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে শনিবার ও রোববার এই রুটে কোনো জাহাজ চলেনি। আরও চারটি জাহাজের চলাচলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনে গিয়ে দিনে ফেরার নিয়মে সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন, রাত যাপনের সুযোগ নেই। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি থাকবে। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েবপোর্টাল থেকে টিকিট কিউআর কোডসহ কিনতে হবে।
পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার জন্য রাতের আলো, শব্দ, বারবিকিউ, কেয়াবনে প্রবেশ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, মোটরসাইকেল বা সি-বাইক চলাচল, পলিথিন ব্যবহার ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, “একটি জাহাজে খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা হলেও টিকিট বিক্রি থেকে আসে মাত্র দেড়-দুই লাখ টাকা। এতে দিনে সাত-আট লাখ টাকা লোকসান হওয়ায় নভেম্বর মাসে জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।” অনুমোদিত জাহাজগুলো বর্তমানে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নোঙর করা আছে।
পর্যটকেরা হতাশ। ঢাকা থেকে আসা যুবক সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “জাহাজ না থাকায় কোথাও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। আগে থেকে জানালে এমন বিড়ম্বনায় পড়তাম না।”
হোটেল ও দোকান মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাতযাপনের সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে পর্যটক না আসলে দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ক্ষতি হবে। তবে পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন তারা।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটন পুনরায় শুরু হলেও নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকসেবার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।