google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ডেঙ্গুতে-এক-দিনে-সর্বোচ্চ-১০-জনের-মৃত্যু-—-জনস্বাস্থ্যবিদেরা-বলছেন,-এটি-সরকারি-অবহেলার-ফল
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নভেম্বর মাসের শুরুতেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১০ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০২ জনে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “প্রতিটি মৃত্যুই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। কিন্তু সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ না করে পুরোনো পদ্ধতিতে চলেছে। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এসব মৃত্যু সরকারি অবহেলারই পরিণতি।”
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১,০৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪,৯৯২ জনে।
সবচেয়ে বেশি পাঁচজন মারা গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালগুলোতে—এর মধ্যে তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও দুজন ল্যাবএইড হাসপাতালে। উত্তর সিটির হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও একজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভোলা ও খুলনায় মারা গেছেন আরও দুজন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ৪০৮ জন, আর ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে ২১৪ জন। এর মধ্যে গাজীপুর জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন সর্বাধিক ৬৫ জন। বরিশাল বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ১২৮, যার মধ্যে বরগুনায় ৪৭ জন—এই বিভাগেই সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল। পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও অনুকূল তাপমাত্রা এডিস মশার প্রজনন বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
সরকার জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সহজলভ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। অক্টোবর মাসে এসে শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। সহজে ও কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও হয়নি।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মশা নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। কিন্তু স্থানীয় সরকার পরিষদগুলো ভেঙে দেওয়ায় দায়িত্বের জায়গা ফাঁকা হয়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিরা থাকলে অন্তত কিছুটা উদ্যোগ দেখা যেত। এখন পুরো ব্যবস্থাপনা অচল হয়ে পড়েছে।
অক্টোবরের শেষ দিক ও নভেম্বরের শুরুতে হওয়া বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে নভেম্বরেই ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।