google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ফুসফুস-ক্যানসার:-প্রতিরোধ-ও-চিকিৎসায়-সমন্বিত-উদ্যোগের-প্রয়োজন
ফুসফুস ক্যানসার কেবল ব্যক্তিগত নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবেও বিশাল আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে—চিকিৎসা, হাসপাতাল, যন্ত্রপাতি সবকিছুর ওপর। তাই প্রতিরোধে চিকিৎসক, পরিবেশবিদ, খাদ্য বিশেষজ্ঞ, আইন প্রণেতা ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তবে এখনও প্রশাসনিক ও সমন্বয়গত দুর্বলতার কারণে সমস্যা সঠিকভাবে মোকাবিলা করা যাচ্ছে না।
এসকেএফ অনকোলজির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় এসব তথ্য জানান জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনায় ছিলেন নাসিহা তাহসিন।
অধ্যাপক স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাংলাদেশে ফুসফুস ক্যানসার প্রধানত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এর মূল কারণ বায়ুদূষণ ও তামাকের ব্যবহার, বিশেষ করে ঢাকা শহরের দূষিত পরিবেশ এবং কম বয়সে ধূমপানের অভ্যাস ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ফুসফুস ক্যানসার শনাক্তের জন্য ধাপে ধাপে পরীক্ষা করা হয়—স্পুটাম টেস্ট, চেস্ট এক্স–রে, সিটি স্ক্যান (কনট্রাস্টসহ), ব্রঙ্কোস্কপি ও সিটি–গাইডেড বায়োপসি। ক্যানসারের প্রধান দুই ধরন হলো নন–স্মল সেল ও স্মল সেল ক্যানসার। নন–স্মল সেল ক্যানসারের হার ৭০–৭৫ শতাংশ, যা ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে অস্ত্রোপচারযোগ্য। স্মল সেল ক্যানসার দ্রুত ছড়ায় এবং সার্জারির সুযোগ কম থাকে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে অধ্যাপক স্বপন কুমার বলেন, স্টেজ নির্ধারণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অস্ত্রোপচার, কেমো, রেডিয়েশন বা নতুন থেরাপি (টার্গেটেড ও ইমিউনোথেরাপি)। বর্তমানে মলিকুলার টেস্টিং বা পিডি–এল টেস্টের মাধ্যমে রোগীর টিউমারের জেনেটিক প্রোফাইল অনুযায়ী কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগ ভালো অনুভব করলেও প্রতি তিন মাস অন্তর পরীক্ষা করা উচিত, বিশেষ করে প্রথম পাঁচ বছর। ফলোআপের মূল উদ্দেশ্য হলো রোগ পুনরায় ফিরে এসেছে কি না তা দ্রুত ধরা এবং রোগীর জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর রাখা।
অধ্যাপক স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করলে ফুসফুস ক্যানসারের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব।