google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘দলগত সম্পৃক্ততা’ পেয়েছে জাতীয় তদন্ত কমিশন, মূল সমন্বয়ক তাপস

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 1, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘দলগত সম্পৃক্ততা’ পেয়েছে জাতীয় তদন্ত কমিশন, মূল সমন্বয়ক তাপস ছবির ক্যাপশন: পিলখানা হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ‘দলগত সম্পৃক্ততা’ পেয়েছে জাতীয় তদন্ত কমিশন, মূল সমন্বয়ক তাপস
ad728

পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত ২০০৯ সালের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের দলগত সম্পৃক্ততার তথ্য। কমিশন বলছে, এ ঘটনার প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এবং পুরো ঘটনার পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। একই সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতার কথাও কমিশন উল্লেখ করেছে।

১১ মাসের অনুসন্ধানের পর রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রতিরক্ষা–বিষয়ক সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সরকারি বিবৃতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করে।

কমিশনের বক্তব্য: সেনাবাহিনীকে দুর্বল করতেই হত্যাকাণ্ড

সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএম ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান বলেন,
“সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এবং দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা ও ভারতের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।”

তাঁর দাবি, দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মসজিদে, ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এবং বিভিন্ন স্থানে বৈঠক ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সম্পৃক্ততার অভিযোগে যাদের নাম এসেছে

কমিশনের তথ্যমতে, এ হত্যাকাণ্ডে যেসব রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে আছেন—

  • শেখ হাসিনা, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী

  • শেখ ফজলে নূর তাপস (মূল সমন্বয়কারী)

  • শেখ ফজলুল করিম সেলিম

  • মির্জা আজম

  • জাহাঙ্গীর কবির নানক

  • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন

  • শেখ হাসিনার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক

  • সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ

  • ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর

ভারতের সংশ্লিষ্টতা: ৬৭ জনের খোঁজ নেই

কমিশনের দাবি, সেই সময় প্রায় ৯২১ জন ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন, যাদের মধ্যে ৬৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে কমিশন।

মিছিল করে ‘কিলার’ বের করে নেওয়া হয়েছিল

ফজলুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি দল ২০–২৫ জনের মিছিল নিয়ে পিলখানায় প্রবেশ করেছিল। বের হওয়ার সময় তাদের সংখ্যা বেড়ে ২০০–র বেশি হয়ে যায়।
তাঁদের ধারণা—“এই মিছিলের সঙ্গে অনেক হত্যাকারী বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।”

কমিশনের প্রতিবেদন: কেন সেনা অভিযান হয়নি

তদন্তে দেখা যায়—

  • ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তৎকালীন সেনাপ্রধান বাইরে ছিলেন

  • সময়মতো সামরিক পদক্ষেপ না নিলে হত্যাকাণ্ড বিস্তৃত হয়

  • সেনা কর্মকর্তা ও পরিবারের ওপর নির্যাতন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে

  • প্রিন্ট–ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু অংশ অপেশাদার আচরণ করে

  • যমুনায় শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা বিডিআর সদস্যদের পরিচয় সংরক্ষণ করা হয়নি

সুপারিশ ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

কমিশন বাহিনী সংস্কার ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার জন্য বিস্তৃত সুপারিশ করেছে।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন—

“বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। আপনাদের কাজ সেই অন্ধকার দূর করবে।”

কমিশন আশা করছে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র জাতির সামনে পরিষ্কার হবে এবং ভুক্তভোগীরা বিচার ও স্বস্তি পাবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ