গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত গ্রামে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাইয়ের ঘটনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। এর মধ্যে নতুন করে সাতজনের শরীরে উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা শহরের রাবেয়া ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ পাওয়া যায়। চর্মরোগবিশেষজ্ঞ মনজুরুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর আক্রান্তদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা ভর্তি হননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে কিশামত গ্রামে একটি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু জবাই করে স্থানীয়রা মাংস কাটাকাটি করেন। এতে অংশ নেওয়া ১১ জনের শরীরে ধীরে ধীরে উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। প্রথমে চারজন আক্রান্ত হন, পরে আরও সাতজনের শরীরে ফোসকা ও মাংসে পচনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ উপসর্গ হাত, নাক, মুখ ও চোখে প্রকাশ পাচ্ছে।
আক্রান্ত প্রথম চারজন হলেন—মোজা মিয়া (৫৬), মোজাফফর মিয়া (৪৫), শফিকুল ইসলাম (৫০) ও মাহবুর রহমান (৫৫)। তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মোজাম্মেল হক জানান, কিশামতসহ কয়েকটি ইউনিয়নে গবাদিপশুকে ইতিমধ্যেই অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন রকিবুজ্জামান বলেন, আক্রান্তদের উপসর্গ মূলত চর্মরোগজনিত। তবে কারও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এখন পর্যন্ত জেলার কোনো হাসপাতালে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়নি।