google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: মাধ্যমিকে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীর হার বেড়েছে
দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখার সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে অষ্টম শ্রেণিতে গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীর হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে। দশম শ্রেণিতেও গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ইংরেজিতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণিতে।
গবেষণাটি দেশের ৯৯৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর (অষ্টম ও দশম শ্রেণির ৩০ হাজার করে) ওপর পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে উচ্চশ্রেণিতে উঠলেও তারা মৌলিক জ্ঞান ঘাটতিতে ভুগছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাজনিত দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে জটিলতা ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এ অবনতির প্রধান কারণ। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান না হওয়া, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভরতা এবং বিদ্যালয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন না নেওয়াও শিক্ষার মান কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
মাউশির প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের শিক্ষার্থীরা গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার তুলনায় ভালো করছে এবং মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কিছুটা ভালো ফল করছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা যত্ন দেওয়া জরুরি। মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খান জানিয়েছেন, প্রতিটি বিষয়ে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে তা সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসএসসি ফলাফলেও গণিতে দুর্বলতার প্রভাব দেখা গেছে। গড় পাসের হার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল গণিতে কম পাসের হার। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে তৎপর হতে হবে, নইলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।