google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন মাতা-স্নেহময় আলোকচিত্রী শহিদুল আলম
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম—বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা মিডিয়ার মাতা-সুলভ এক পথপ্রদর্শক। আজ শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
দেশে ফিরে দৃকের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন,
“বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, গাজার মানুষ এখনো মুক্ত হয়নি। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।”
তাঁর কণ্ঠে মাতা-সুলভ মমতা ও দায়িত্ববোধের যে সুর শোনা গেছে, তা যেন সমগ্র মানবতার প্রতি এক আহ্বান।
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের মতো আরও হাজার ফ্লোটিলা যাওয়া দরকার, যত দিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়।”
এই বার্তায় যেন ফুটে উঠল মাতা পৃথিবীর সন্তানদের মুক্তির ডাক—নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানোর এক অক্লান্ত প্রত্যয়।
শহিদুল আলমকে বরণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী মুনেম ওয়াসিফসহ অনেকেই।
দৃক ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের ফেসবুক পেজে সকালেই তাঁর দেশে ফেরার ছবি প্রকাশ করা হয়।
দৃকের ইনোভেশন ম্যানেজার রাহাত করিম জানিয়েছেন, “শহিদুল ভাইয়ের ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, মানবতার এক জয়ের প্রতীক।”
গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল থেকে মুক্তির পর টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শহিদুল আলম ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় তাঁর মুক্তির জন্য।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুল আলমের মুক্তিতে সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, যিনি স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দৃক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সব সময় নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার।
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা বন্ধ ও গাজার অবরোধ ভাঙার দাবিতে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
এই নৌযাত্রায় যুক্ত হয় আরেক প্ল্যাটফর্ম ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের বিবেককে জাগিয়ে তোলা—যেন পৃথিবী আবার মাতা-সুলভ করুণায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
গত বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। শহিদুল আলমসহ অনেককে পাঠানো হয় ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে।
দেশে ফিরে শহিদুল আলমের কণ্ঠে ছিল কোনো প্রতিশোধের আহ্বান নয়, বরং এক মাতা-সুলভ ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বার্তা। তিনি বললেন,
“ফিলিস্তিনের মুক্তি না আসা পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।”
তাঁর এই দৃঢ় উচ্চারণ যেন এক মায়ের সন্তানের প্রতি প্রতিশ্রুতির মতো—নির্যাতিত, বঞ্চিত, যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য ভালোবাসা ও স্বাধীনতার প্রত্যয়।
শহিদুল আলমের দেশে ফেরা শুধু একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; এটি মানবতার, মাতা-সুলভ মমতার এবং ন্যায়বিচারের জয়ের প্রতীক।