কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে চলবে পর্যটকবাহী জাহাজ। তবে উখিয়ার ইনানী থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচলে আইনগত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
গতকাল সোমবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ১৯ এপ্রিল কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত অঞ্চলকে ‘প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা’ (Ecologically Critical Area—ECA) ঘোষণা করা হয়েছে। ইনানী যেহেতু ওই ঘোষিত অঞ্চলের আওতাভুক্ত, তাই ইনানী জেটিকে নৌরুট হিসেবে ব্যবহার করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়।
এতে বলা হয়, ইনানী জেটি দিয়ে নৌযান চলাচল শুরু হলে সেখানে বিভিন্ন ক্রুজশিপ, লঞ্চ ও ট্রলারের গতিবিধি বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। তাই ইনানী-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচলে আইনগত ও বিধিগত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বিকল্প হিসেবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বের নিয়মেই নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনানী থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চালুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে পর্যটকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানালো—ইনানী নয়, বরং আগের নিয়মেই নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকেই চলবে সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ।