google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ৭১ বছরে কমল হাসান: অভিনয়, সংগীত, পরিচালনা—সবখানেই এক অনন্য নক্ষত্র
সাদা–কালো এক শিশুর ছবি কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আজ সেই শিশুই উপমহাদেশের এক কিংবদন্তি অভিনেতা—কমল হাসান। আজ তাঁর ৭১তম জন্মদিন, সকাল থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন এই গুণী শিল্পী।
খুব ছোট বয়সেই অভিনয়ের জগতে পা রাখেন কমল হাসান। তাঁর বাবা ডি. শ্রীনিবাসন ছিলেন একজন আইনজীবী, আর মা রাজলক্ষ্মী গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বিমসিং পরিচালিত তামিল ছবি ‘কালাথুর কান্নাম্মা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। সেই ছবিতেই তিনি পান শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর জাতীয় পুরস্কার।
তাঁর অভিনীত অধিকাংশ সিনেমাই তামিল ভাষার হলেও, তিনি সমান দক্ষতায় অভিনয় করেছেন হিন্দি, বাংলা, তেলুগু, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্রেও। ‘অপূর্ব রাগাঙ্গাল’, ‘মুন্দ্রাম পিরাই’, ‘হে রাম’ ও ‘দশাবথারাম’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে অন্যতম।
১৯৭৫ সালে কিংবদন্তি পরিচালক বালাচন্দরের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ‘অপূর্ব রাগাঙ্গাল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পান ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এই ছবিতে একজন বিদ্রোহী যুবকের চরিত্রে তাঁর বাস্তবসম্মত অভিনয় দর্শকের হৃদয় জয় করে নেয়।
অভিনয়ে সফল এই শিল্পী নিজেকে প্রমাণ করেছেন পরিচালক হিসেবেও। ‘চাচি ৪২০’ ছবির মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ‘হে রাম’, ‘ভিরুমান্দি’, *‘বিশ্বরূপম’*সহ একাধিক সফল চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন।
অভিনয় ও পরিচালনার পাশাপাশি গান ও গীত রচনাতেও পারদর্শী কমল হাসান। ‘জাগো গোরি’ ও ‘ওহ হো সানাম’ তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
২০১৮ সালে তিনি রাজনীতির ময়দানে পদার্পণ করেন। তবে তাঁর শিল্পীসত্তা আজও অম্লান—যিনি একই সঙ্গে অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক ও চিন্তক।
কমল হাসানের মেয়ে শ্রুতি হাসানও বর্তমানে দক্ষিণি ও বলিউড সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। মজার বিষয় হলো, মাত্র ছয় বছর বয়সে শ্রুতি বাবার একটি তামিল ছবিতে গান গেয়েছিলেন।
৭১ বছর বয়সেও কমল হাসান এখনও অনুপ্রেরণার নাম—একজন শিল্পীর অসাধারণ বিবর্তনের জীবন্ত প্রতীক।